স্বস্তিকার সঙ্গে শুটিংয়ে সমীকরণ নিয়ে অকপট পাওলি দাম!
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৫৭ পিএম | ১০ এপ্রিল, ২০২৬
শুটিংয়ের সেটে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হলেন পাওলি দাম। সাম্প্রতিক এক আলাপচারিতায় তিনি তুলে ধরলেন দীর্ঘদিনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজের বাস্তবতা, একই সঙ্গে জানালেন নতুন ছবি ‘বিবি পায়রা’ নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথাও।
অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মৃত্যুর প্রসঙ্গ উঠতেই স্পষ্ট কণ্ঠে ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করেন পাওলি। তাঁর ভাষায়, এত বছর ধরে সঠিক নিরাপত্তাবিধি ছাড়াই কাজ করে যাওয়া শুধু মর্মান্তিক নয়, বরং লজ্জাজনকও। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে শুটিং সেটে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পুরনো স্মৃতির পাতা উল্টাতে গিয়ে উঠে আসে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিজ্ঞতা। প্রায় এক যুগ আগে ‘ফ্যামিলি অ্যালবাম’ ছবির শুটিং চলাকালীন সমুদ্রের জলে গলা পর্যন্ত ডুবে যাওয়ার মুহূর্ত স্মরণ করেন পাওলি। সেই দৃশ্যে পাড়ে দাঁড়িয়ে দৌড়াদৌড়ি করে তাঁকে খুঁজছিলেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। ক্যামেরার সামনে দৃশ্যটি যতটা স্বাভাবিক মনে হয়েছিল, বাস্তবে ততটাই বিপজ্জনক ছিল সেই পরিস্থিতি। শুটিং চলাকালীন কোনো প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী বা জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় আতঙ্ক আরও বেড়ে গিয়েছিল বলে জানান তিনি।
শুধু একটি ঘটনা নয়, বারবার এমন ঝুঁকির মুখে পড়েছেন বলেও উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, চলচ্চিত্রের অভিনেতা ও কলাকুশলীরা মূলত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই কাজ করেন, অথচ তাদের জন্য নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, এমনকি অনেক ক্ষেত্রেই বীমার ব্যবস্থাও করা হয় না। অতীতে বাংলাদেশে শুটিং করতে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কথাও স্মরণ করেন তিনি, যেখানে গুরুতর আহত হয়েছিলেন তাঁর সহকর্মী।
শুটিং সেটে ন্যূনতম চিকিৎসা সুবিধা, প্রশিক্ষিত কর্মী কিংবা জরুরি সেবার অভাবকে তিনি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, শুধু শিল্পী নয়, ক্যামেরা ও আলো বিভাগের কর্মীরাও সমান ঝুঁকির মধ্যে থাকেন, অথচ তাদের নিরাপত্তা নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়।
এদিকে কাজের প্রসঙ্গে ফিরে এসে পাওলি জানান, নতুন ছবি ‘বিবি পায়রা’ তাঁর জন্য একেবারেই ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা। পরিচালক অর্জুন দত্তের এই ছবিতে তিনি অভিনয় করছেন ‘ঝুমা’ চরিত্রে, যা একেবারে সাধারণ, বাস্তব ও ত্রুটিপূর্ণ এক নারীর প্রতিচ্ছবি। ছবিটি মূলত দুই নারীর ক্ষমতায়নের গল্প, যেখানে হাস্যরসের আড়ালে উঠে এসেছে জীবনের গভীর কিছু সত্য।
এই ছবিতে দীর্ঘদিন পর আবারও একসঙ্গে কাজ করেছেন পাওলি ও স্বস্তিকা। তাদের পর্দার রসায়ন যেমন প্রাণবন্ত, তেমনি শুটিংয়ের সময় নানা মজার ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি এক দৃশ্যে চুল টানাটানির অভিনয় নিয়েও হাস্যরসের স্মৃতি ভাগ করে নেন তিনি।
সব মিলিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সহকর্মীর মৃত্যু এবং নতুন কাজ সবকিছু মিলিয়ে এক জটিল আবেগের সময় পার করছেন পাওলি দাম। তবে এই সময়েই তিনি জোর দিয়ে বললেন, এখনই সময় শুটিং সেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়ার, না হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা বারবার ফিরে আসবে।
পিআর/টিকে