ক্ষমা চেয়েও শাস্তি কমল না এনজোর
ছবি: সংগৃহীত
০৫:০৭ এএম | ১১ এপ্রিল, ২০২৬
মুখ ফসকে বলা এক কথায় এখন পস্তাতে হচ্ছে এনজো ফার্নান্দেজকে। রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করে পেয়েছেন নিষেধাজ্ঞার শাস্তি। নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমাও চেয়েছেন চেলসির আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। তবে তাতেও শাস্তি কমছে না—ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে রোববারের ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি।
চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে হারের পর ইএসপিএন আর্জেন্টিনা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিয়াল মাদ্রিদের যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন ফার্নান্দেজ। এরপর আন্তর্জাতিক বিরতিতে তিনি বলেন, ‘আমি স্পেনে থাকতে চাই, মাদ্রিদ শহরটা আমার খুব পছন্দ।’ তাঁর এমন চাওয়া সহজভাবে নেয়নি চেলসি— দেওয়া হয় দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার শাস্তি।
প্রিমিয়ার লিগে ম্যান সিটির মুখোমুখি হওয়ার আগে চেলসির কোচ লিয়াম রোসেনিওর জানিয়েছেন, ‘ফার্নান্দেজ ইতোমধ্যেই দুঃখ প্রকাশ করেছেন, তবে ক্লাবের দেওয়া দুই ম্যাচের অভ্যন্তরীণ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।’ এর আগে পোর্ট ভেলের বিপক্ষে এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল মিস করেছেন এনজো। আর রোববার স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচেও তাকে পাওয়া যাবে না।
রোসেনিওর যোগ করেন , ‘এনজোর সঙ্গে আমার তিন-চারবার খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। সে আমার কাছে এবং ক্লাবের কাছেও ক্ষমা চেয়েছে। রোববারের বড় ম্যাচের পর আমরা বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’ শিষ্যর ভুলকে খুব বড় করে দেখছেন না রোসেনিওর। তবে একবার ভুল করলে শাস্তি এড়ানোরও যে সুযোগ নেই সেটাও মনে করিয়ে দিলেন চেলসি কোচ,
‘এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় ছিল, তাই সিরিয়াসভাবে আলোচনা হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় আমি কখনোই এনজোর চরিত্র বা ব্যক্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলিনি। আমি বিশ্বাস করি, মানুষ ভুল করতেই পারে। তবে ভুলের জন্য নির্ধারিত শাস্তি এড়িয়ে যাওয়া যায় না।’

শেষে চেলসি কোচ বলেন, ‘আমি চাই, এখান থেকে এনজো এগিয়ে যাক এবং অসাধারণ একটি ক্যারিয়ার গড়ে তুলুক। রোববারের ম্যাচের পর চেলসির মৌসুমে এনজো ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ রাখবে বলেই আশা করছেন তিনি। তবে দলে ফেরার আগে তাকে এখনও কিছু বাধা অতিক্রম করতে হবে বলছেন রোসেনিওর।
চেলসির মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এনজো। ইংলিশ ক্লাবটি কি দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে নিষেধাজ্ঞার শাস্তি দিয়ে নিজেদেরই ক্ষতি করছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রোসেনিওর বলেন, ‘না। আমার দলে অসাধারণ স্কোয়াড আছে, অসাধারণ সব খেলোয়াড়ে ভরা। শুরুর একাদশ ঠিক করা এখনও খুব কঠিন কাজ। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমাকে সেটা ঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। ফুটবল একটা দলীয় খেলা। এখানে ব্যক্তি নয়, দলই আসল। এটা নিজের পায়ে কুড়াল মারা নয়। কিছু মূল্যবোধ আর সংস্কৃতি আছে, যেগুলোতে আমি বিশ্বাস করি, ক্লাবও বিশ্বাস করে। এগুলো ঠিকভাবে ধরে রাখতে পারলে দল আরও শক্তিশালী হয়।’
লিগে পয়েন্ট টেবিলে ছয় নম্বরে থাকা চেলসি শেষ ১৮ পয়েন্টের মধ্যে মাত্র ৫ পয়েন্ট পেয়েছে। ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে আবার ছন্দে ফেরাই এখন তাদের লক্ষ্য। আগামী মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ থেকে পাঁচটি দল ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় সুযোগ পাবে। সিটির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে পঞ্চম স্থানে থাকা লিভারপুলের চেয়ে এক পয়েন্ট পিছিয়ে আছে ‘ব্লুজরা’।
আইকে/টিকে