অফিস বয় থেকে কোটি টাকার মালিক পরিচালক মোহিত সুরি!
ছবি: সংগৃহীত
১০:৪৪ এএম | ১১ এপ্রিল, ২০২৬
বলিউডের অন্যতম সফল পরিচালক হিসেবে আজ যাঁর নাম উচ্চারিত হয়, সেই মোহিত সুরি’র জীবন শুরু হয়েছিল একেবারেই সাধারণ বাস্তবতার মধ্য দিয়ে। তারকা পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও, ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা তৈরি করতে তাঁকে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের পথ।
মাত্র আট বছর বয়সে মাকে হারানোর পর জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন মোহিত। কৈশোরেই শুরু হয়ে যায় দায়িত্বের চাপ। মাত্র ষোলো বছর বয়স থেকে তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। শুরুটা ছিল একেবারেই সাধারণ মামা মহেশ ভাটের অফিসে কাজ করা, কনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে বিভিন্ন কাজ সামলানো এবং প্রযোজনা সংস্থার অফিসে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার মতো দায়িত্ব পালন।
পরবর্তীতে তিনি বিক্রম ভাটের সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রাথমিক পাঠ নিতে শুরু করেন। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে সিনেমা পরিচালনার প্রতি তাঁর আগ্রহ দৃঢ় হয়। সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার পর ২০০৫ সালে তিনি পূর্ণাঙ্গ পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তাঁর প্রথম ছবি দিয়েই ইন্ডাস্ট্রিতে নজর কাড়েন তিনি।
এরপর একে একে ‘কলিযুগ’, ‘আওয়ারাপন’, ‘মার্ডার ২’ এবং ‘আশিকি ২’-এর মতো ছবির মাধ্যমে তিনি বলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। বিশেষ করে সংগীতনির্ভর গল্প বলার ভিন্ন ধারা তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ছবি ‘সইয়ারা’ও বক্স অফিসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়, যা তাঁকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।
ব্যক্তিগত জীবনেও মোহিত সুরি আলোচনার বাইরে থাকেননি। তাঁর পরিচালিত প্রথম দিকের ছবির নায়িকা উদিতা গোস্বামীর সঙ্গেই পরবর্তীতে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং ২০১৩ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দীর্ঘ সময়ের সম্পর্কের পর তাঁদের এই বন্ধন আজও স্থিতিশীল। এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে মোহিত সুরি বলিউডের অন্যতম সফল পরিচালকদের একজন। তথ্য অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ শত কোটির ঘর অতিক্রম করেছে। প্রতি ছবিতে তিনি মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক নেন, যা তাঁর অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।
একসময় যিনি অফিস বয়ের দায়িত্ব থেকে শুরু করেছিলেন, আজ তিনি বলিউডের সফলতম গল্পকারদের একজন। সংগ্রাম আর অধ্যবসায়ের এই যাত্রাই মোহিত সুরির জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়।
পিআর/টিএ