ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ আলোচনায় বসার আহ্বান জাতিসংঘের
ছবি: সংগৃহীত
০৪:১৯ পিএম | ১১ এপ্রিল, ২০২৬
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা ইসলামাবাদে শুরু হতে যাচ্ছে। শনিবারের এ আলোচনাকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন।
১৯৭৯ সালের পর এই প্রথম ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হতে যাচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনাকে স্বাগত জানিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উভয় পক্ষকে সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তার মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, মহাসচিব দুই পক্ষকে এই কূটনৈতিক সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়া যায় এবং উত্তেজনা কমানো সম্ভব হয়।
তিনি আরো বলেন, সংঘাত এড়াতে এবং আবার যুদ্ধাবস্থায় ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি ঠেকাতে সংলাপই একমাত্র কার্যকর পথ।
মহাসচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য শান্তিপূর্ণ সমাধানের কোনো বিকল্প নেই এবং তা অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী হতে হবে।
এছাড়া জানানো হয়েছে, মহাসচিবের ব্যক্তিগত দূতও বর্তমানে ওই অঞ্চলে অবস্থান করছেন, যাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সহায়তা করা যায়।
উল্লেখ্য-গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সমন্বিত হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।
ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশটির সামরিক ও বেসামরিক বহু স্থাপনা। পাঁচ সপ্তাহে ইরানে ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানও হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়।
গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২২ এপ্রিল।
সূত্র : বিবিসি
এমআর/টিকে