পঞ্চাশ পেরিয়েও সিঙ্গেল জীবন কাটাচ্ছেন বলিউডের এই নায়িকারা
ছবি: সংগৃহীত
০৪:২৬ এএম | ১২ এপ্রিল, ২০২৬
বলিউডে সাফল্য, অর্থ, খ্যাতি—সবই পেয়েছেন তারা। তবু ব্যক্তিগত জীবনে বিয়ের পথে হাঁটেননি এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীরা। সমাজে যেখানে নির্দিষ্ট বয়সের পর বিয়ে নিয়ে চাপ তৈরি হয়, সেখানে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকেছেন। পঞ্চাশের গণ্ডি পেরিয়েও অবিবাহিত থেকে নিজেদের মতো করে জীবন গড়েছেন এই বলিউড সুন্দরীরা।
টাবু বরাবরই বলিউডের ‘মিস্ট্রি ওম্যান’ হিসেবে পরিচিত। শক্তিশালী অভিনয় দক্ষতার জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব কমই মুখ খোলেন। দক্ষিণী অভিনেতা নাগার্জুনের সঙ্গে তার সম্পর্কের গুঞ্জন একসময় শোনা গেলেও তা পরিণতি পায়নি। একাধিক সাক্ষাৎকারে টাবু জানিয়েছেন, সঠিক মানুষ না পাওয়াই বিয়ের পথে না হাঁটার অন্যতম কারণ। বর্তমানে তিনি নিজের কাজ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকেই প্রাধান্য দেন।
১৯৯৪ সালে মিস ইউনিভার্স খেতাব জয়ের পর থেকেই সুস্মিতা সেন হয়ে ওঠেন আত্মনির্ভরতার প্রতীক। জীবনে একাধিক সম্পর্কে জড়ালেও বিয়ের সিদ্ধান্ত নেননি তিনি। তবে মাতৃত্বকে আলাদা গুরুত্ব দিয়েছেন। দুই কন্যা সন্তানকে দত্তক নিয়ে তাদের মানুষ করেছেন। সুস্মিতা বারবার বলেছেন, বিয়ে তার কাছে জীবনের আবশ্যিক লক্ষ্য নয়; বরং ভালোবাসা ও দায়িত্বই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

‘কহো না... প্যায়ার হ্যায়’ দিয়ে বলিউডে দুর্দান্ত সূচনা করেছিলেন আমিশা। এরপর ‘গদর’-এর মতো ব্লকবাস্টার ছবিতেও অভিনয় করেন। তবে ব্যক্তিগত জীবনে নানা টানাপোড়েন, সম্পর্ক ভাঙাগড়ার অভিজ্ঞতা তাকে বিয়ের বিষয়ে সতর্ক করে তোলে। আমিশা বহুবার জানিয়েছেন, তিনি স্বাধীন জীবনযাপন পছন্দ করেন এবং নিজের শর্তে জীবন কাটাতে চান।
৯০-এর দশকে বলিউড ও দক্ষিণী চলচ্চিত্রে সমান জনপ্রিয় ছিলেন নাগমা। পরে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তার ব্যক্তিগত জীবনও নানা সময় আলোচনায় এসেছে, বিশেষ করে ক্রিকেটারদের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন ঘিরে। তবে নাগমা কখনও বিয়ে করেননি। তার মতে, জীবনে অনেক দায়িত্ব ও কাজের কারণে বিয়ে তার অগ্রাধিকারে ছিল না।
পঞ্চাশ পেরোনোর পরও বিয়ে না করা এই অভিনেত্রীরা প্রমাণ করেছেন, জীবনকে সফল এবং পূর্ণ করে তুলতে বিয়ে একমাত্র পথ নয়। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, পেশাগত সাফল্য এবং নিজের মতো করে বাঁচার ইচ্ছাই তাদের জীবনের মূল শক্তি। সমাজের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থেকেছেন, যা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা।
টিজে/টিএ