© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আটকা পড়া বাংলাদেশি জাহাজ দ্রুত হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে পারবে: ইরানি রাষ্ট্রদূত

শেয়ার করুন:
আটকা পড়া বাংলাদেশি জাহাজ দ্রুত হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে পারবে: ইরানি রাষ্ট্রদূত

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৫৫ পিএম | ১২ এপ্রিল, ২০২৬
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী বলেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে অনেক জাহাজ অপেক্ষায় আছে, যার মধ্যে বাংলাদেশের কিছু জাহাজও রয়েছে।

তিনি বলেছেন, ইরান বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে এবং দ্রুত এসব জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ আয়োজিত ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণ: মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জবাবদিহিতা দাবি’ শীর্ষক এক শোক সমাবেশ ও যুদ্ধাপরাধ বিরোধী প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইরানি রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ক প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ইরান বাংলাদেশকে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে বিবেচনা করে। বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের কোনো শত্রুতা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ওমানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশগুলোকেও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

তিনি বলেন, মর্যাদার ভিত্তিতে আলোচনা হলে ইরান অংশ নেবে, অন্যথায় কোনো আলোচনায় যাবে না—এই বার্তা যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া হয়েছে।নির্ধারিত যুদ্ধবিরতির সময় পর্যন্ত ইরান হামলা থেকে বিরত থাকবে, তবে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলে ইরানও প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হবে।

ইসলামাবাদে আলোচনার ফলাফল প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, এর আগেও আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃতপক্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে নয়, বরং আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতেই আলোচনায় অংশ নেয়।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা চালিয়েছে এবং ইরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখতে চায়।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন সফল হয়নি উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, হামলার মাধ্যমে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে জনগণ সরকারের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র সফল হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

ইরানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলার প্রতিবাদে কর্মসূচি আয়োজন করায় বিপ্লবী ছাত্র পরিষদকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, এসব হামলায় হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ও শিশুদের প্রাণহানি ঘটেছে। তিনি বলেন, ইরান এসব হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং দেশটি যুদ্ধ চায় না, কারণ যুদ্ধ মানবজাতির জন্য ক্ষতিকর। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধে আগ্রহী নয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এসব হামলায় শিশুদের হত্যা করা বিশ্ব বিবেকের ওপর আঘাত এবং অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ইরানের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মীর মোহাম্মাদী, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নেত্রী মরিয়ম জামিলা তামান্না।

আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব গালীব ইহসান, সদস্য সাইদুল ইসলাম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সদস্য সচিব ফজলুর রহমান, সহকারী সদস্য সচিব ডা. নাবিল আহমদ ও জিহাদী ইহসান, মো. আরিফুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক সানোয়ারা খাতুন, যুগ্ম আহ্বায়ক নিয়াজ আহমদ, ঢাকা আলীয়া মাদরাসা শাখার আহ্বায়ক রকিব মণ্ডল, সদস্য সচিব জিনাত হোসাইন ও যুগ্ম আহ্বায়ক সালমান ফারসি, মাহফুজুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ, আল আমীন শেখ এবং জালালুদ্দিন রুমি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ প্রমুখ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানি শিশুদের স্মরণে প্রতীকী কফিন, রক্তাক্ত স্কুলব্যাগ ও ছবি প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি যুদ্ধবিরোধী স্বাক্ষর কর্মসূচিও পালন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বাক্ষর দিয়ে যুদ্ধ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানান।

এমআর/টিএ   

মন্তব্য করুন