‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৩৪ পিএম | ২১ এপ্রিল, ২০২৬
‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে মোবাইল বা ক্যামেরায় অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করলে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে। এই আইনের আওতায় ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য জানান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে এই প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী তার প্রশ্নে উল্লেখ করেন, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনেকেই অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রসালো শিরোনামে প্রচার করছেন। অনেক ক্ষেত্রে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে সরকারের পরিকল্পনা ও আইনি ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি জানতে চান।
জবাবে মন্ত্রী জানান, গত ১০ এপ্রিল পাস হওয়া ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’-এর ধারা ২৫(১) অনুযায়ী, ডিজিটাল মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন বা সেক্সটরশনের অভিপ্রায়ে কোনো তথ্য বা ভিডিও প্রচার ও প্রচারের হুমকি প্রদান করা একটি অপরাধ।
এই অপরাধের দণ্ড হিসেবে ধারা ২৫(২) অনুযায়ী অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু হলে দণ্ড বেড়ে ৫ বছর কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে। এ ছাড়া ভিডিওর ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করলে তা ধারা ২২ অনুযায়ী ‘সাইবার স্পেসে প্রতারণা’ হিসেবে গণ্য হবে, যার শাস্তি অনধিক ৫ বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।
মন্ত্রী জানান, আইনের ধারা ৮ অনুযায়ী জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষমতা রাখেন। এ ক্ষেত্রে বিটিআরসি-কে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা যাবে। এ ছাড়া পরোয়ানা ব্যতিরেকে জরুরি ক্ষেত্রে তল্লাশি ও অপরাধীকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
সাইবার স্পেসে ক্ষতিকর কনটেন্ট রিয়েল-টাইমে শনাক্ত করতে ‘সিকিউরিটি অর্কেস্ট্রেশন, অটোমেশন অ্যান্ড রেসপন্স (সোয়ার)’ এবং এন্ডপয়েন্ট ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স (ই-ডি-আর)-এর মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
তদন্ত সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হবে। ফলে ভিডিওর উৎস ও ব্যক্তির পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করা যাবে। বিদেশে অবস্থান করে এই ধরনের অপরাধ করলে ‘পারস্পরিক সহায়তা আইন, ২০১২’ প্রয়োগ করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
এসএন