© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আজমীর শরিফে শাহরুখকে ধাক্কা, বিশৃঙ্খলা সামলাতে লাঠিচার্জ পুলিশের

শেয়ার করুন:
আজমীর শরিফে শাহরুখকে ধাক্কা, বিশৃঙ্খলা সামলাতে লাঠিচার্জ পুলিশের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:২৮ পিএম | ২১ এপ্রিল, ২০২৬
শাহরুখের কাছে আজমেড় শরিফ বরাবরই বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার এক মিলনক্ষেত্র। বাদশার বিশ্বাস যে, তিনি আজ যা কিছু অর্জন করেছেন, তার সবটাই এই দরগার আশীর্বাদে। সেইজন্যেই কোনও বহু প্রতীক্ষিত মেগাবাজেট সিনেমা হোক কিংবা আইপিএলের মরশুমে কেকেআরের জন্য কাপ জেতার প্রার্থনা, বিভিন্ন কাজের আগে বা বিশেষ দিনগুলোতে দরগায় চাদর চড়াতে যান কিং খান।

শাহরুখের আজমেড় দরগা সফর নিয়ে একাধিক ঘটনাও রয়েছে। একবার শাহরুখ খান একবার তাঁর অসুস্থ মায়ের জন্য প্রার্থনা করতে গিয়ে আজমেড় শরিফ দরগায় গিয়েছিলেন। সেখানে মায়ের দেওয়া ৫০০০ টাকা হারিয়ে ফেলেন তিনি। বহু খোঁজ করেও পাননি। মনে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নিয়ে যখন দরগা থেকে বেরচ্ছেন, তখন ঘটে এক অলৌকিক ঘটনা!

এক সাক্ষাৎকারে বাদশা নিজেই ভাগ করে নিয়েছেন সেকথা। দরগা চত্বরে আচমকাই এক ফকির এসে হাজির হন। তিনি শাহরুখকে বলেন, "আজ তুই ৫০০০ টাকা হারিয়েছিস, কিন্তু একদিন ৫০০ কোটি টাকার মালিক হবি। এখানে থেকে কেউ খালি হাতে ফেরে না।" এই ভবিষ্যদ্বাণীই সত্য হয়েছিল। এবং শাহরুখ আজ বিশ্বের অন্যতম সফল মেগাস্টার। এরপরই এই দরগার প্রতি বাদশার বিশ্বাস আরও বেড়ে যায়।



তবে একবার আজমেড় শরিফে গিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন শাহরুখ খান। বেশ কয়েক বছর আগের কথা। আইপিএল শুরুর আগে রাজস্থানে গিয়েছিলেন বলিউডের বাদশা। আর রাজস্থানে যখন, তখন দরগায় ঢুঁ মারা মাস্ট! কী ঘটে সেবার? সম্প্রতি অভিনেতার নিরাপত্তারক্ষী সেকথাই তুলে ধরেছেন সংবাদমাধ্যমের কাছে।

আজমেড় শরিফে শাহরুখ আসছেন শুনেই সেখানকার মানুষ উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন। সেদিন শাহরুখের নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে সঙ্গে ছিলেন ইউসুফ ইব্রাহিম। তিনি জানান, কিং খানকে দেখার জন্য এমন জনসুনামির সৃষ্টি হয় যে তিনি নিজেই ধাক্কাধাক্কির কবলে পড়েছিলেন। তারপর?

ইউসুফ জানান, জনঅরণ্যে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে, ধাক্কা খেতে খেতে গাড়িতে উঠতে হয় ভারতের অন্যতম মেগাস্টার শাহরুখ খানকে। নিরাপত্তরক্ষীর সংযোজন, “আইপিএলের জন্যই আজমেড় দরগায় যেতে চেয়েছিলেন শাহরুখ স্যর। তবে পৌঁছনোর পরে বুঝলাম, আমরা ভুল দিনে চলে এসেছি। সেদিন ছিল শুক্রবার। সময় দুপুর সাড়ে ১২টা। নমাজ পড়ার সময়। শুক্রবার অবশ্য সারাদিনই সেখানে ভিড় থাকে।" তারপর?

প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষের ভিড় ছিল সেদিন আজমেড় শরিফে। এমন দিনে দরগায় গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়েন কিং খান। ইউসুফ ইব্রাহিম জানান, "ওই জনসুনামির মাঝে আমাদের ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল। পরিস্থিতি এক পর্যায়ে এমন হয় যে লোকজন আমাদের ধাক্কা মারতে মারতেই দরগার মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়। খোদ কিং খানও রক্ষা পাননি সেযাত্রায়।"

তবে এরকম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শাহরুখ বুঝিয়ে দেন তিনি কতটা মাটির মানুষ। ইউসুফ বলেন, "ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছিল। সেদিন একেবারে উন্মত্ত অবস্থা হয়। এটা আমার সারাজীবনের অভিজ্ঞতা।" আর কিং খান?

ইউসুফের সংযোজন, "তবে এহেন পরিস্থিতিতে আমাদের কিং খান কিন্তু মাথা ঠান্ডা রেখে একেবারে শান্ত থেকে পরিস্থিতি সামাল দেন। এত ভিড়েও মাথা গরম তো দূরঅস্ত বাদশার মুখের হাসি ম্লান হয়নি।" 

এসএন 

মন্তব্য করুন