৪০ কোটি হাতকে দেশ গড়ায় নামতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৩:১৬ পিএম | ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে অলস বসিয়ে রাখলে চলবে না, এই বিশাল জনশক্তিকে দেশ গড়ার কাজে লাগাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি।
আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তিলে তিলে রক্ত দিয়ে হলেও তা পালন করা হবে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে যশোরের শার্শা উপজেলায় বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ‘উলসী-যদুনাথপুর’ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৫০ বছর ধরে এই খাল ভরাট ও দখল হয়ে পড়ে ছিল। এতে কৃষকের কোনো উপকার হয়নি।
আমরা এই চার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করছি। এর ফলে ২০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবে, ১৪০০ টন বাড়তি খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে এবং প্রায় ৭২ হাজার মানুষ সরাসরি সুফল পাবে।
খালের দুই পাড়ে ৩ হাজার বৃক্ষ রোপণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, খালে পানি থাকলে মা-বোনেরা হাঁস পালন করে বাড়তি আয় করতে পারবেন। আগামী ৫ বছরে আমরা সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার ‘জিয়া খাল’ খনন করতে চাই, যেন গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি করেছিলেন। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মেয়েদের শিক্ষা ডিগ্রি (উচ্চতর) পর্যন্ত ইনশাআল্লাহ ফ্রি করা হবে। পাশাপাশি মেধাবীদের জন্য থাকবে বিশেষ উপবৃত্তি।
মা-বোনদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘এলপিজি কার্ড’ চালুর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারী প্রধান পরিবারগুলোকে আমরা ফ্যামিলি কার্ড দেব। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে সরকার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া রান্নার কষ্ট লাঘবে দেওয়া হবে এলপিজি কার্ড।
তারেক রহমান বলেন, “আমরা ওয়াদা করেছিলাম ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করব। সরকার গঠনের ১০০ দিনের মধ্যেই আমরা সেই কাজ শুরু করেছি। এছাড়া বন্ধ কলকারখানাগুলো চালুর প্রক্রিয়া চলছে, যাতে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হয়। মসজিদের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সরকারি সম্মানি ভাতার কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, এখন দেশ গড়ার পালা। আমরা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সব দল মিলে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছি। সেই সনদের প্রতিটি শব্দ আমরা বাস্তবায়ন করব।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ষড়যন্ত্রের আভাস দিয়ে তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তি ও দল গণঅভ্যুত্থানের রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনগণের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চায়। ১৭৩ দিন হরতাল করে যারা অর্থনীতি ধ্বংস করেছিল, সেই ভূত এখন আবার অন্য কারো কাঁধে আছর করেছে। এদের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে। বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্লোগান দিয়ে বলেন, গড়বো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুর যদি ৫০ বছরে বদলে যেতে পারে, তবে বাংলাদেশ কেন পারবে না? ১৯৭১ ও ২০২৪-এ এদেশের মানুষ অসাধ্য সাধন করেছে, এবারও দেশ গড়তে তারা সফল হবে।
সমাবেশে স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে উলসী খালের ওপর একটি নতুন ও সুন্দর ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে তিনি কোদাল হাতে মাটি কেটে খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এবি/টিএ
এবি/টিএ