বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো স্টেডিয়াম পুনর্নিমাণে ১২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হলিউড তারকার
ছবি: সংগৃহীত
০৭:১২ পিএম | ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
রেক্সহ্যাম এএফসির হোমগ্রাউন্ড রেসকোর্স গ্রাউন্ড বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো চালু থাকা ফুটবল স্টেডিয়াম হিসেবে পরিচিত। ঐতিহাসিক এই স্টেডিয়ামের পুননির্মানের জন্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা) বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাবটি। এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ক্লাবের মালিক দুই হলিউড তারকা রায়ান রেনল্ডস ও রবার্ট ম্যাকএলহেনি, যারা ক্লাবটিকে শীর্ষ মানে উন্নীত করতে চান। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ব্যাপক অবকাঠামোগত সংস্কার এবং দর্শক ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, যাতে ক্লাবের ক্রীড়া উন্নয়নকে সমর্থন করা যায়।
এই প্রকল্পের মূল আকর্ষণ হলো নতুন 'কপ' স্ট্যান্ড নির্মাণ, যেখানে ৭,৭০০-এর বেশি দর্শক বসতে পারবেন। এটি ২০২৩ সালে ভেঙে ফেলা ঐতিহাসিক স্ট্যান্ডটির জায়গা নেবে। সম্প্রসারণ শেষে স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা ১৮,০০০ ছাড়িয়ে যাবে এবং টিকিট বিক্রি, হসপিটালিটি ও বিভিন্ন ইভেন্ট থেকে আয় বাড়বে। এটিকে ইএফএল চ্যাম্পিয়নশিপের অন্যতম উচ্চাকাঙ্ক্ষী উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ক্লাবটির এই আর্থিক প্রবৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে ওয়েলকাম টু রেক্সহ্যাম সিরিজ, যা বিশ্বব্যাপী ক্লাবটির জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে এবং নতুন স্পন্সর ও বিনিয়োগকারী আকর্ষণ করেছে। এর ফলে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখেই এত বড় বিনিয়োগ সম্ভব হয়েছে। ওয়েলশ সরকারও প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে এবং এই স্টেডিয়ামের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
মাঠের পারফরম্যান্সেও দলটি ভালো করছে। তারা বর্তমানে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে এবং প্লে-অফ প্লেসের জন্য লড়ছে। ক্লাব ব্যবস্থাপনা মনে করে, দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা ভবিষ্যতে প্রিমিয়ার লিগের মানদণ্ড পূরণ করতে চায়।
নতুন স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সের নকশা করেছে পপুলাস, যারা ইউরোপের অনেক শীর্ষ স্টেডিয়াম নির্মাণে কাজ করেছে। নির্মাণকাজ ২০২৭ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা, যদিও এর আগেই প্রিমিয়ার লিগে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। সে ক্ষেত্রে শীর্ষ লিগ থেকে পাওয়া আয় এই প্রকল্পের অর্থায়নে সহায়ক হবে।
এই রূপান্তরের মাধ্যমে রেক্সহ্যাম আধুনিক ফুটবলে টেকসই উন্নয়নের একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে চায়।
টিজে/এসএন