রাজনৈতিক চাপে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডে গণপদত্যাগ
ছবি: সংগৃহীত
১১:২৪ এএম | ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
বড় ধরনের পরিবর্তনের সামনে দাড়িয়ে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। সরকারের আহ্বানের প্রেক্ষিতে সভাপতি শাম্মি সিলভাসহ পুরো বোর্ড একযোগে পদত্যাগ করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে একটি অন্তর্বর্তী কমিটি নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে অতীতে এমন হস্তক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সংঘাত হওয়ায় এবারও বিষয়টি বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে পরিবর্তনের আহ্বান জানানোর পরই এই গণপদত্যাগের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ও জনমতের চাপের মধ্যে ছিল শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ড।
এক বিবৃতিতে বলা হয়, 'শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সভাপতি শাম্মি সিলভা আজ থেকে কার্যকরভাবে পদত্যাগ করেছেন। তার সঙ্গে বোর্ডের অন্যান্য কর্মকর্তারাও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।' এই সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে ও ক্রীড়ামন্ত্রী সুনীল কুমারা গামাগের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সভাপতি হওয়ার পর থেকে সিলভা টানা চার মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। তার সময়ে এশিয়া কাপ জয়ের মতো কিছু সাফল্য এলেও সামগ্রিকভাবে শ্রীলঙ্কা দলের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিক উন্নতি দেখা যায়নি। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে নবম হওয়া এবং ২০২৪ ও ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশাজনক ফল বড় সমালোচনার কারণ হয়। এমনকি কোচ হিসেবে ভারতকে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতানো গ্যারি কারস্টেনের নিয়োগও পরিস্থিতি খুব একটা বদলাতে পারেনি।

আইসিসির হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা:
এই পরিস্থিতি আবারও আইসিসির সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি করতে পারে। এর আগে ২০১৫ সালে একইভাবে অন্তর্বর্তী কমিটি গঠনের পর আইসিসি সেই কমিটিকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং অর্থায়ন বন্ধ রেখেছিল। ২০১৮ সালে সরকার কর্তৃক নিয়োগ করা প্রশাসকের ক্ষেত্রেও দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের জন্য চাপ দেয় আইসিসি।
সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটে ২০২৩ সালের নভেম্বরে, যখন তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী রোশান রানাসিংহে বোর্ড ভেঙে দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় আইসিসি শ্রীলঙ্কার সদস্যপদ স্থগিত করে, ফলে অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যায় এবং অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
এক্ষেত্রে আইসিসির অবস্থান সবসময়ই স্পষ্ট, তারা কেবল নির্বাচিত বোর্ডকেই স্বীকৃতি দেয়, দেশীয় রাজনীতি এমনকি দুর্নীতির অভিযোগ পর্যন্ত থাকুক না কেন।
এসকে/এসএন