ডিসিদের জনগণের সেবায় নিবেদিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি
ছবি: সংগৃহীত
১২:৫৩ এএম | ০৪ মে, ২০২৬
জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি, নীতি, কর্মসূচি ও প্রকল্প বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকার জন্য বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।
রোববার (৩ মে) বঙ্গভবনে জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আগত বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদানকালে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘদিনের অপশাসনের অবসানের পর নতুন সরকার ইতোমধ্যে জনগণের কল্যাণে নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগের সুফল যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে যথাসময়ে পৌঁছে, তা নিশ্চিত করা মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব।
মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ সরকারের প্রত্যক্ষ প্রতিনিধি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ সব কিছুর উপরে আপনারা জনগণের সেবক।’ তিনি বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, সমস্যা ও অভিযোগ নিয়মিত শোনার পাশাপাশি তা প্রতিকারে সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি মানসম্মত সরকারি সেবা দ্রুত ও সহজে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারেরও পরামর্শ দেন।
তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার, গুজব ও অপতথ্য ব্যবহার করে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি বিনষ্ট এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি এ সকল অপতৎপরতা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। এছাড়া ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ, যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন এবং মাদক প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।
নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং লিঙ্গভিত্তিক অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ের নারীদের ক্ষমতায়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
দুর্নীতিকে সুশাসন ও উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মাঠ প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিতে কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব দিতে হবে। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের আন্তরিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন।
এ সময় বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ মজুতদারি রোধে মাঠ প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার, উন্নয়ন প্রকল্প সময়মতো বাস্তবায়ন এবং ব্যয় সংযম নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। এছাড়া উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখে উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।
সম্মেলনে বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
জেলা প্রশাসক সম্মেলন সরকারের নীতি-নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি এ সম্মেলন থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর্মকর্তাগণ একটি উন্নত, আধুনিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসকে/এসএন