সংকট কাটিয়ে ডিপিএল শুরু আজ
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৩৬ এএম | ০৪ মে, ২০২৬
অনেক দিন ধরেই চলছিল অনিশ্চয়তা। অবশেষে কেটে গেল স্থবিরতার সব ধরনের অস্বস্তিকর গল্প। যেন নতুন করে জীবন ফিরে পেল দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্ট ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ (ডিপিএল)। আজ মাঠে গড়াচ্ছে টুর্নামেন্টটির নতুন আসর। তবে শুধু একটি লিগ আয়োজনের জন্যই ক্রিকেটারদের মাঠে নামা নয়, এতে থাকছে দিনবদলের পরিষ্কার বার্তা!
কয়েক মাস আগেও বলতে গেলে একরকম যেন অচল হয়ে পড়েছিল ঘরোয়া ক্রিকেটের চাকা। সেই স্থবিরতা কাটাতে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বিসিবিপ্রধান তামিম ইকবাল ক্লাবগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসেন। প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, অতীতের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হবে না, লিগ মাঠে গড়াবে স্বচ্ছতা আর ন্যায্যতার ভিত্তিতে। তার সে কথার ওপর আস্থা রেখেই ফের মাঠে ফিরছে ১২ দলের এ টুর্নামেন্ট।
আবাহনী, মোহামেডান, গাজী গ্রুপ, প্রাইম ব্যাংক, বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স, গুলশান ক্রিকেট ক্লাব, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জসহ পরিচিত দলগুলোসহ এবারও শিরোপা লড়াইয়ে নামছে সব মিলিয়ে ১২ ক্লাব। তবে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যায় পরিবর্তন না এলেও বদলে গেছে লিগের কাঠামো ও আয়োজনের ধরন। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে ভেন্যু ব্যবস্থাপনায়। এতদিন ডিপিএল মূলত আটকে ছিল বিকেএসপির গণ্ডিতে। কিন্তু লিগ খেলতে এবার খেলোয়াড়রা নামবেন ছয়টি ভিন্ন মাঠে। বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি, ইউল্যাব মাঠ, ক্রিকেটার্স একাডেমি ও পুবেরগাঁওয়ের মাঠ যুক্ত হওয়ায় ভোগান্তি কমবে। পাশাপাশি টুর্নামেন্টও পাবে নতুন মাত্রা।
পরিবর্তন শুধু আয়োজনেই নয়, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তাও এবার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বিসিবি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাঠে ঘটে যাওয়া কয়েকটি হৃদয়বিদারক ঘটনার পর বিসিবি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি ভেন্যুতেই বোর্ড রাখতে যাচ্ছে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা। এমনকি কয়েকটি ভেন্যুতে আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত থাকবে। খেলোয়াড়দের জন্য এই সিদ্ধান্ত নির্ভরতার অনন্য এক দৃষ্টান্ত।

দুর্নীতি দমনে আরো কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বিসিবি। বিপিএলের আদলে অ্যান্টি-করাপশন প্রোটোকল চালু থাকবে ডিপিএলেও। ড্রেসিংরুমে ব্যক্তিগত ফোন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মাঠে ঢোকার আগেই মোবাইল ফোন জমা দিতে হবে নির্দিষ্ট জায়গায়। পুরো প্রক্রিয়াটি থাকবে বিসিবির মনিটরিংয়ে। খেলোয়াড় থেকে কোচিং স্টাফÑসবার জন্যই এ নিয়ম বাধ্যতামূলক। এর মাধ্যমে ঘরোয়া ক্রিকেটকে আরো পেশাদার ও বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতেই বোর্ডের নতুন এই উদ্যোগ।
লিগে এবার নেই সম্প্রচার নিয়ে কোনো অস্বস্তি। তবে টুর্নামেন্টের যে পরিবর্তনটা সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে, সেটি হলো খেলোয়াড়দের জীবনযাপন ও ফিটনেস ভাবনা। বিসিবি এবার ম্যাচের দিনে দলগুলোর জন্য খাবারের ব্যবস্থাও করবে। যেখানে প্রচলিত ভাত-ভর্তার বদলে রাখা হয়েছে স্বাস্থ্যকর মেন্যু।
লিগের সূচিও হয়েছে গতিশীল। আগে যেখানে এক রাউন্ডের খেলা শেষ হতে দুদিন লেগে যেত, এবার একদিনেই হবে ছয়টি ম্যাচ। ১১ রাউন্ডের খেলা শেষ হবে টানা ১১ দিনে। বৃষ্টির জন্য রাখা হয়েছে রিজার্ভ ডে; তবে সুপার লিগ বা রেলিগেশন পর্ব রাখা হয়নি ক্লাবগুলোর দাবির প্রতি সম্মান রেখেই।
এসকে/টিএ