এশিয়ায় ৭০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে এডিবি
ছবি: সংগৃহীত
১০:১২ এএম | ০৪ মে, ২০২৬
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে একসঙ্গে যুক্ত করে বিদ্যুৎ ও ডিজিটাল অবকাঠামোর এক নতুন যুগ শুরু করতে বড় ধরনের বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ২০৩৫ সালের মধ্যে মোট ৭০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের এই উদ্যোগের মাধ্যমে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিড এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্ক একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যা অঞ্চলটির অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
উজবেকিস্তানের সামারকান্দে এডিবির বার্ষিক সভায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সেখানে ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট মাসাটো কান্ডা বলেন, বিদ্যুৎ ও ডিজিটাল সংযোগই আগামী দিনের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হবে।
তাঁর ভাষায়, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে একসঙ্গে যুক্ত করতে পারলে বিদ্যুতের খরচ কমবে, সুযোগ বাড়বে এবং কোটি মানুষের জীবন সহজ হবে।
এই বড় পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো প্যান-এশিয়া পাওয়ার গ্রিড উদ্যোগ, যার মাধ্যমে আঞ্চলিক বিদ্যুত্ব্যবস্থাকে একক নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন দেশের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি যেমন সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ সহজেই আদান-প্রদান করা যাবে।
পাশাপাশি ট্রান্সমিশন লাইন, সাবস্টেশন, বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং গ্রিড ডিজিটাইজেশন উন্নত করা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় ২০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সীমান্ত পেরিয়ে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এডিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী এই উদ্যোগের ফলে প্রায় ২২ হাজার সার্কিট-কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন তৈরি হবে, ২০ কোটি মানুষের বিদ্যুৎ সুবিধা উন্নত হবে, প্রায় আট লাখ ৪০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বিদ্যুৎ খাতে কার্বন নিঃসরণ প্রায় ১৫ শতাংশ কমে আসবে। এই প্রকল্পের অর্থের একটি বড় অংশ এডিবি নিজেই দেবে এবং বাকি অর্থ আসবে বিভিন্ন উন্নয়ন অংশীদার ও বেসরকারি খাত থেকে।
অন্যদিকে ডিজিটাল সংযোগ বাড়ানোর জন্য আলাদা একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার নাম এশিয়া-প্যাসিফিক ডিজিটাল হাইওয়ে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এর আওতায় বিভিন্ন দেশে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক, সাবমেরিন কেবল, স্যাটেলাইট সংযোগ এবং ডেটা সেন্টার গড়ে তোলা হবে, যাতে পুরো অঞ্চলটি দ্রুত ও আধুনিক ডিজিটাল নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারে।
এই ডিজিটাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২০ কোটি মানুষ প্রথমবারের মতো ইন্টারনেট সুবিধা পাবে এবং আরো ৪৫ কোটি মানুষ দ্রুত ও সাশ্রয়ী ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাবে। বিশেষ করে দূরবর্তী ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে ইন্টারনেট খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি প্রায় ৪০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে।
এই ডিজিটাল উদ্যোগকে শক্তিশালী করতে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে একটি এআই উদ্ভাবন ও উন্নয়নকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহায়তায় গঠিত এই কেন্দ্রটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে ডিজিটাল ও এআই দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
টিজে/এসএন