© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ওজন কমাতে জেনে নিন জাপানি পদ্ধতিতে হাঁটার নিয়ম

শেয়ার করুন:
ওজন কমাতে জেনে নিন জাপানি পদ্ধতিতে হাঁটার নিয়ম

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:১৭ এএম | ০৫ মে, ২০২৬
নিয়মিত হাঁটলে ওজন কমে, শরীর থাকে ঝরঝরে- এটা কমবেশি সবারই জানা। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না, জাপানি পদ্ধতিতে হাঁটলে সাধারণ হাঁটার চেয়ে তিন গুণ বেশি ক্যালোরি ঝরে। এই পদ্ধতিকে বলা হয় জাপানি ইন্টারভ্যাল ওয়াকিং। এই পদ্ধতিতে ৩ মিনিট জোরে ও ৩ মিনিট ধীরে হাঁটতে হয়। এতে ওজন যেমন কমে, তেমনি রক্তে শর্করার পরিমাণও নিয়ন্ত্রণে থাকে। দিনে মাত্র ৩০ মিনিট এই হাঁটাই বদলে দেবে শরীর।

ইন্টারভ্যাল ওয়াকিং কী?

জাপানের শিনশু ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ইন্টারভ্যাল ওয়াকিংয়ের এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। এই পদ্ধতি অনুযায়ী প্রথমে ৩ মিনিট বেশ জোরে হাঁটতে হবে। এমন স্পিডে যাতে কথা বলতে একটু কষ্ট হয়, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়। এরপর আবার ৩ মিনিট আস্তে হাঁটুন। এই সময় শরীর অনেকটা রিল্যাক্স হয়ে যাবে। এই ৬ মিনিটের সাইকেল দিনে ৫ বার রিপিট করুন। সব মিলিয়ে মোট ৩০ মিনিট এভাবে হাঁটুন। সপ্তাহে ৪ দিন করলেই যথেষ্ট।

কেন এত কার্যকরী?

সাধারণ একটানা হাঁটার চেয়ে ইন্টারভ্যাল ওয়াকিং পদ্ধতিতে হাঁটলে ৩ গুণ বেশি মেদ ঝরে। জোরে হাঁটার সময় শরীরে গ্রোথ হরমোন ক্ষরণ হয় যা মেদ গলায় ও পেশি মজবুত করে। ধীরে হাঁটার সময় মাংসপেশি রিকভার করে । নিয়মিত এই পদ্ধতিতে হাঁটলে মেদ কমে, খারাপ কোলেস্টেরল কমে ও ভালো কোলেস্টেরল বাড়ে। সবচেয়ে বড় কথা, এভাবে হাঁটলে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ে। এর ফলে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

নানবা ওয়াক

তারুণ্য ধরে রাখতে জাপানিরা নানবা ওয়াক নামে হাঁটার আরেকটি কৌশল মেনে চলেন। আমরা হাঁটার সময় ডান হাত ও বাম পা একসাথে আগে ফেলি। কিন্তু নানবা ওয়াকে ডান হাত ও ডান পা একসাথে আগে যায়। বাম হাত ও বাম পা একসাথে। এতে শরীরের ভারসাম্য ভালো থাকে। কোমরে চাপ পড়ে না। হাঁটু ও গোড়ালির ব্যথা কমে। শিরদাঁড়া সোজা থাকে। ফলে বয়স হলেও কুঁজো হয়ে যেতে হয় না। সামুরাই যোদ্ধারা এই কায়দায় হাঁটত।



কীভাবে শুরু করবেন?

সকালে খালি পেটে না হেঁটে হালকা কিছু খেয়ে নিন। প্রথম সপ্তাহে দিনে ১৫ মিনিট করুন। ধীরে ধীরে ৩০ মিনিট করুন। জোরে হাঁটার সময় লম্বা শ্বাস নিন। নানবা ওয়াক অভ্যাস করতে সময় লাগতে পারে। ধীরে ধীরে এভাবে হাঁটার চেষ্টা করুন। হাঁটার সময় আরামদায়ক স্নিকার্স, পোশাক এবং একটি ঘড়ি বা টাইমার রাখতে পারেন। ঘন ট্র্যাফিক সিগন্যাল পড়ে বা লোকজনের আনাগোনা আছে এমন রাস্তা এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো আপনার হাঁটার গতি কমিয়ে দিতে পারে। হাঁটার জন্য নিরাপদ জায়গা খুঁজে বের করুন।

সূত্র: এশিয়াননেট, ওয়েব এমডি

এসএ/এসএন

মন্তব্য করুন