© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ডিএমকে ও এআইএডিএমকে সরকার গঠনের চেষ্টা করলে টিভিকে’র ১০৮ বিধায়কই পদত্যাগ করবেন

শেয়ার করুন:
ডিএমকে ও এআইএডিএমকে সরকার গঠনের চেষ্টা করলে টিভিকে’র ১০৮ বিধায়কই পদত্যাগ করবেন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:৪৩ এএম | ০৮ মে, ২০২৬
অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা থালাপাতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম বা টিভিকে বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় সতর্ক করেছে যে, যদি দুটি দ্রাবিড় দলের মধ্যে কোনো একটি—এম কে স্ট্যালিনের ডিএমকে অথবা ই পালানিস্বামীর এআইএডিএমকে—তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের দাবি জানায়, তবে দলের প্রত্যেক বিধায়ক পদত্যাগ করবেন। সূত্রে খবর অনুযায়ী এসব জানা গেছে।

তামিলনাড়ুর দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল, ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে শিবিরে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরপরই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

টিভিকে এখন সন্দেহ করছে যে, তাদেরকে বাদ দিয়ে রাজ্যে সরকার গঠনের জন্য এই দুটি দল আঁতাত করছে।

এবারের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বিজয়ের দল টিভিকে। অন্যদিকে নির্বাচনে ডিএমকে ৫৯টি আসন জিতেছে এবং এআইএডিএমকে পেয়েছে ৪৭টি। তামিলনাড়ুর বিধানসভার আসন সংখ্যা ২৩৪। যেখানে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ টি আসন।

কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যপাল আর. ভি. আরলেকার প্রয়োজনীয় সংখ্যা না থাকায় বিজয়কে সরকার গঠনের দাবি অস্বীকার করেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য বিজয় যে পরিকল্পনা পেশ করেছিলেন, তাও তিনি গ্রহণ করেননি।

রাজভবন থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজ্যপাল ব্যাখ্যা করেছেন যে, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় তামিলনাড়ু বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে টিভিকে-র আরও ১০টি আসন প্রয়োজন এবং দলটি ইতোমধ্যেই কংগ্রেসের সমর্থন পেয়েছে, যাদের পাঁচজন বিধায়ক রয়েছেন। বাকি আসনগুলোর জন্য বাম ও কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সূত্র জানিয়েছে, দলটি আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।



ডিএমকে কি বিকল্প সরকার গঠনের পরিকল্পনা করছে?
ডিএমকে আজ সকালে একটি সভা করে, যেখানে তারা চারটি প্রস্তাব পাস করেছে। এর মধ্যে একটি প্রস্তাবে দলের প্রধান এম কে স্তালিনকে জরুরি সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এই প্রস্তাব প্রসঙ্গে ডিএমকে বলেছে, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো আরেকটি নির্বাচন এড়ানো, একটি স্থিতিশীল সরকার গঠন করা এবং সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলোকে কোনো সুযোগ না দেয়া।’

টিভিকের সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবকে একটি জটিল সংকট আখ্যা দিয়ে ডিএমকে তার সমস্ত বিধায়কদের ১০ মে পর্যন্ত চেন্নাইয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

এআইএডিএমকে অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করছে
এআইএডিএমকে-ও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে এবং তাদের বিধায়কদের অপেক্ষা করতে বলেছে। দলের একটি অংশ টিভিকে-র সঙ্গে জোট করতে আগ্রহী, কিন্তু দলের শীর্ষ নেতারা তা দৃঢ়ভাবে নাকচ করে দিয়েছেন।

এদিকে, রাজ্যপালের এই অবস্থান টিভিকে-র সম্ভাব্য মিত্রদেরও অসন্তুষ্ট করেছে।

সিপিআই-এর তামিলনাড়ু শাখা রাজ্যপালকে সংবিধান অনুযায়ী কাজ করার জন্য অনুরোধ করেছে এবং উল্লেখ করেছে যে, শপথ গ্রহণের আগে বিজয়কে তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বলাটা ‘সঠিক’ হয়নি।

সিপিআই একটি বিবৃতিতে বলেছে, ‘একক বৃহত্তম দল হিসেবে, সংবিধান অনুযায়ী টিভিকে-কে বিধানসভায় তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করার জন্য রাজ্যপালের পক্ষ থেকে একটি সুযোগ দেয়া উচিত। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এস আর বোম্মাই মামলাসহ একাধিক রায়ে এই নীতিটি নিশ্চিত করেছে।’

সূত্র:এনডিটিভি

টিজে/টিএ 

মন্তব্য করুন