© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রাজনীতি নিয়ে কী বললেন রূপাঞ্জনা?

শেয়ার করুন:
রাজনীতি নিয়ে কী বললেন রূপাঞ্জনা?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৩৬ এএম | ০৮ মে, ২০২৬
বঙ্গ রাজনীতিতে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, মতাদর্শের টানাপোড়েন এবং ব্যক্তিগত উপলব্ধি নিয়ে এবার মুখ খুললেন অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তার কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছিল। কেউ বলছিলেন, তিনি কি আবার গেরুয়া শিবিরে ফিরতে চলেছেন? আবার কেউ প্রশ্ন তুলছিলেন, তৃণমূলের প্রতি তার অবস্থান ঠিক কোথায়?

এই বিতর্কের মাঝেই স্পষ্ট ভাষায় নিজের অবস্থান জানালেন অভিনেত্রী। রূপাঞ্জনার কথায়, তাকে ঘিরে কদর্য আক্রমণ করা হচ্ছে। তবে রাজনীতির নানা পর্যায় কাছ থেকে দেখার পর এখন আর বাংলার রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে চান না তিনি।

অভিনয়ের জগতে পথচলা শুরু হয়েছিল দুই হাজার সাল থেকে। সেই সময় থেকেই নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে সরব ছিলেন রূপাঞ্জনা। পরে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের পাশে দাঁড়ান তিনি। সেই অবস্থানের কারণে এক সময় কটূক্তিরও শিকার হতে হয়েছিল বলে দাবি করেছেন অভিনেত্রী।

রূপাঞ্জনার ভাষ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াকু মনোভাব তাকে আকৃষ্ট করেছিল। কিন্তু দুই হাজার চৌদ্দ সালের পর বিনোদন অঙ্গনের ভেতরে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে থাকেন তিনি। পারিশ্রমিক বকেয়া থাকা থেকে শুরু করে কাজের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। সেই সময় থেকেই সরকারি অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলতেন অভিনেত্রী।



একই সময়ে বিজেপির পক্ষ থেকেও তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়। পরে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেও খুব দ্রুতই মতাদর্শগত দূরত্ব অনুভব করতে থাকেন রূপাঞ্জনা। তার অভিযোগ, সেখানে তাকে ঘৃণার রাজনীতির দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার চাপও ছিল। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে মমতার সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল বলেই জানান অভিনেত্রী।

দুই হাজার উনিশ সালের পর বিজেপি থেকে দূরত্ব বাড়তে থাকলে আমেরিকায় চলে যান রূপাঞ্জনা। দেশে ফিরে আবারও রাজনৈতিক সক্রিয়তার প্রস্তাব এলেও তিনি আর সেই পথে হাঁটেননি। তার উপলব্ধি, ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি তিনি মেনে নিতে পারেন না। সুস্থ ও সমতাভিত্তিক সমাজেই থাকতে চান তিনি।

পরবর্তীতে তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে তাকে দেখা গেলে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়। তবে রূপাঞ্জনার দাবি, কোনও রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে তিনি কখনও অর্থ নেননি। জনপ্রিয় মুখ হিসেবেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডাক পেতেন।

ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতে তাকে দেখা যাবে কি না, সেই প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর দেননি অভিনেত্রী। তবে বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তার মতে, শিল্প ও কর্মসংস্থান নিয়ে যেভাবে ভাবা উচিত ছিল, তা হয়নি। ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভাজনের রাজনীতিও তাকে ব্যথিত করে।

তবে নতুন সরকারকে ঘিরে কিছুটা আশাবাদী রূপাঞ্জনা। বিশেষ করে চলচ্চিত্র অঙ্গনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করার আশ্বাসকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। একই সঙ্গে অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের সংগ্রামের প্রশংসাও করেছেন রূপাঞ্জনা।

এসএ/এসএন

মন্তব্য করুন