ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ হতে পারে জাতিসংঘ সম্মেলনের সাইডলাইনে
ছবি: সংগৃহীত
১০:০৫ পিএম | ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
চলমান জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সাইড লাইনে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতিসংঘের সম্মেলনের সাইড লাইনে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি সাধারণত অন্য কোনো দেশের শীর্ষ নেতাকে সময় দেয় না। তবে বাংলাদেশ যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র থেকে কমপক্ষে ১২টি উড়োজাহাজসহ একাধিক খাতের কেনাকাটা করছে, সেই হিসেবে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সময় দিলেও দিতে পারেন। এছাড়া পাকিস্তান, তুরস্কসহ একাধিক দেশের শীর্ষ প্রধানসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাইড লাইনে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হবে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, চলমান জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সাইড লাইনে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানে সাক্ষাৎ (কল অন) চেয়েছেন ঢাকার কূটনীতিকরা। তবে সাইড লাইনে সাক্ষাৎ হবে কিনা তা এখনো অজানা। কারণ সাধারণ রীতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘ অধিবেশনে কোনো দেশের সরকার প্রধানকেই সাইড লাইনে আলাদা সময় দেন না।
এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করা সকল শীর্ষ নেতাদেরকে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট কর্তৃক এক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ জানান হয়। এই সংবর্ধনায় ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ পেয়েছেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ হবে। এর বাইরে অন্য কোনোভাবে সাক্ষাৎ ঘচবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক সময়ের আলোকে বলেন, ‘আমরা জানি যে রীতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘ সম্মেলনের সাইড লাইনে কোনো দেশের শীর্ষ নেতাকেই সময় দেন না। তারপরও আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের একটি কল-অন চেয়েছি। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন বেশ ভালো। ঢাকা ওয়াশিংটন থেকে উড়োজাহাজসহ একাধিক খাতের কেনাকাটা করছে। সেই হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে কোনো এক ফরমেটে সময় দিলেও দিতে পারে। কিন্তু সেটা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। কারণ দেশটা যুক্তরাষ্ট্র। সাক্ষাৎ হওয়ার পরই কেবল জানা যাবে, তার আগে জানার উপায় নাই।’
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বাংলাদেশের অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সাইড লাইনে সময় দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ। ৭৯তম জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পরপরই ওই সময় বাইডেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে অতি সংক্ষিপ্ত একটি বৈঠক করেছিল। যা ছিল একটি বিরল ঘটনা এবং এর পেছনের কারণ ছিল, শেখ হাসিনা সরকারের পতনে ওয়াশিংটন খুশি ছিল এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের প্রতি তাদের আস্থা ছিল। এখন যেহেতু বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেক বড় অঙ্কের কেনাকাটা করছে, তাই এবারও এমন বিরল ঘটনা ঘটতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রীর সফর-সূচি থেকে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজিত প্রতিনিধিদলের প্রধানদের স্বাগত প্রাতরাশে (স্বাগত প্রাতরাশ) অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপরি প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। এরপর সকাল সাড়ে দশটার পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এর আশেপাশের সময়ে মালদ্বীপের উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে একটি বৈঠক হতে পারে। একইদিন সকাল ১১টার দিকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর পরপরই বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১২টার দিকে হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিস-এমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
মঙ্গলবার দুপুরে মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপের সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই দিন বিকেলে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহর সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সন্ধ্যায় জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনায় অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন পরিদর্শন করবেন। সেখানে আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে (স্বাগত প্রাতরাশ) প্রাতরাশ বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রাতরাশ বৈঠকে গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, আইআরসি, বিস্ট ফিলানথ্রোপি, রোটারি ইন্টারন্যাশনাল, সিআইএমএমওয়াইটি, ইউপিএস ফাউন্ডেশন, আইকেইএ ফাউন্ডেশন, জিইডিআই, ইনফোসিস ফাউন্ডেশন, ইউএন মিউজিয়াম লাইভ, বায়ের ফাউন্ডেশন, জায়েদ সাসটেইনেবল প্রাইজ, নর্থওয়েল হেল্থ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
বুধবার সকাল ১১টা ১৫ মিনিট থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সময়ে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। এই দিন দুপুরে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই দিন বিকেলে জলবায়ু কার্যক্রম ও ন্যায়সংগত রূপান্তরবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডান নেলসনের সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ভাষণ দিবেন। এই দিন সকালে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
দুপুরে সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বিনিময় ও ফটোসেশন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর মাতৃ ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু বন্ধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারি অন্তর্ভুক্তিবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন।
এরপর দুপুর ২টা ১৫ থেকে ২টা ২৫ মিনিট সময়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সময়ে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবেন ও ভাষণ (বিকেলের অধিবেশনে ১৮ জনের মধ্যে ১১তম, বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট, নিউইয়র্ক সময়) দিবেন। এই দিন রাতে প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নিবেন প্রধানমন্ত্রী।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জেপি মরগান আয়োজিত ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সকাল ১১টায় কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই দিন দুপুরে ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জায়েদ আল হুসেইনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার রাতে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। মাঝে যাত্রা বিরতি দিয়ে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
প্রধানমন্ত্রীর সফর-সূচি থেকে আরও জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান সফরসঙ্গী হিসেবে এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (এক), পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (দুই), যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেযারম্যান, বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর স্পেশাল এসিসটেন্ট, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর স্পেশাল এসিসটেন্ট, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, প্রধানমন্ত্রীর এসিসটেন্ট মিলিটারি সেক্রেটারি, প্রধানমন্ত্রীর সিনিয়র মেডিকেল অফিসার, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার এক ও দুই, প্রধানমন্ত্রীর এডিসি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব, অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও সহকারি প্রেস সচিব, এসএসএফের ডিজি, পিজিআরের কমান্ডার, পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রেসিডেন্ট, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব, পররাষ্ট্র সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় সচিব, পররাষ্ট্রের পরবর্তী সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিফ অব প্রটোকল কর্মকর্তা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি (জাতিসংঘ), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি (মিয়ানমার), নিউইয়র্কের বাংলাদেশ মিশনের রাষ্ট্রদূত, ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ মিশনের রাষ্ট্রদূত এবং বিমান বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
কেএন/টিএ