© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির তীব্র সমালোচনা মাসুদ কামালের

শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির তীব্র সমালোচনা মাসুদ কামালের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:১০ এএম | ০৯ মে, ২০২৬
সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই চুক্তি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতির জন্য ‘ভয়াবহ ক্ষতিকর’ হতে পারে।

শুক্রবার (৮ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ‘কথা’-তে প্রকাশিত এক ভিডিও বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ভিডিওতে মাসুদ কামাল বলেন, আমি এর আগেও একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের যে চুক্তি হয়েছে সে চুক্তি নিয়ে কথা বলেছি এবং পুরো চুক্তিটা পড়ার পর দেখার পর আমার কাছে মনে হয়েছে এটা আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য একটা বড় আঘাত।

আমরা নিজেদের মতো কিছু করতেই পারব না কথা পরিষ্কার গোলামী চুক্তি যাকে বলে। আমরা বলতাম না যে বঙ্গবন্ধু ভারতের সঙ্গে ২৫ বছরে গোলামী চুক্তি করেছে যেটা নিয়ে অনেক লোক মাঠ গরম করেছে এবং ওই প্রশ্নের ওই প্রসঙ্গটা উঠলে ওটা নিয়ে আওয়ামী লীগের জবাব দেওয়ার কোনো পয়েন্ট ছিল না।

তিনি বলেন, আমার বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিটা করা হয়েছে এই চুক্তিটার কাছে তুলনা করলে ওই ২৫ বছরের গোলামী চুক্তি শিশুর মতো। এটা এত ভয়ঙ্কর এত ন্যাক্কার এত সার্বভৌমত্ব বিরোধী একটা চুক্তি বাংলাদেশে ড. ইউনুস সরকার করে গেছে যার সঙ্গে অন্য কোনো গোলামী চুক্তির কোনো তুলনা হয় না।

জাস্ট আমাদের একদম বিকলাঙ্গ করে দেওয়ার জন্য, আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যকে বিকলাঙ্গ করে দেওয়ার জন্য এই চুক্তিটা করা হয়েছে।

মাসুদ কামাল বলেন, অজুহাত দেওয়া হয়েছে গার্মেন্ট শিল্পের কথা। যে গার্মেন্ট শিল্পে আমাদের নাকি রপ্তানি বাড়বে। এই অজুহাত আর কোনো অজুহাত না।

অথচ যে জুজুর ভয় দেখানো হয়েছে সে জুজুর ভয়টা এখন যুক্তরাষ্ট্রের যে সুপ্রিম কোর্ট তারাই বলেছে যে ট্রাম্প এ ধরনের শুল্ক আরোপ করতে পারে না। তার মানে আপনি যদি আজকে চুক্তিটাকে বাতিল করে দেন অমান্য করেন, ট্রাম্প চাইলেও কিন্তু শুল্ক অতটা আপনাকে বাড়াতে পারবে না। কারণ সুপ্রিম কোর্ট বলে দিছে পারবে না। তাহলে আপনি ভয় পাচ্ছেন কাকে?

দেখুন আমি এটা নিয়ে বারবার কথা বলছি এই কারণে যে এই একটা চুক্তির কারণে আমাদের দেশে অর্থনৈতিকভাবে ভয়ঙ্কর একটা সংকটের মধ্যে পড়তে পারে বিভিন্ন খাত কৃষি শিল্প, ওষুধ শিল্প, একদম ধ্বংস হয়ে যাবে এবং এটা ক্যাটাগরিকালি বিভিন্ন পয়েন্ট নিয়ে আমরা আলাপ করেছি আজকে আমি খুব লক্ষ্য করলাম আমাদের বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটে গিয়েছিলেন। সিলেটে যেয়ে উনি ওখানে একটা ন্যাচারাল পার্ক উদ্বোধন করছেন।

করার পর সাংবাদিকদের প্রশ্ন করেছেন, সেখানে উনি অনেকগুলো কথা বলেছেন এই চুক্তি নিয়ে। আমি সেই চুক্তি উনার পয়েন্টগুলো নিয়ে একটু আলোচনা করতে চাই। উনি প্রথমত বলেছেন যে দুজন ব্যক্তির মধ্যে চুক্তি করা হলে চট করে বদল করা যায়।

দুটি রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। দুটি রাষ্ট্র কোনো চুক্তি করলে তার ইচ্ছা স্বাধীন পরিবর্তন করা যায় না। এই কথাটা আসলে কতটুকু সত্য? এই কথাটা একটা ডাহা মিথ্যা কথা। একদম ডাহা মিথ্যা কথা। দুজন লোকের মধ্যে চুক্তি হলে সেটা বাতিল করতে যতটা কঠিন তার চেয়ে অনেক কম কঠিন হলো রাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি বাতিল করা। কারণ রাষ্ট্রের মধ্যে যখন চুক্তি হয় সেই চুক্তির মধ্যে বাতিলের অপশনটা দেওয়া থাকে। এই চুক্তিটা আপনি কিভাবে বাতিল করতে পারবেন? সে অপশনটা ওখানে দেওয়া আছে। তো ওই দেওয়া যেটা আছে উনি পড়েছেন? খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সাহেব আমি উনাকে রিকোয়েস্ট করি। আপনি কি চুক্তিটা পড়েছেন ভাই? আমার তো সন্দেহ আছে যে মন্ত্রী হওয়ার আনন্দে আপনি এত আনন্দিত হয়ে গেছেন, এত কিছু উদ্বোধন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন যে চুক্তিটা পড়ার সময় আপনি পান নাই। আমি একেবারে মোর দেন সিওর আপনি আমার সঙ্গে বসেন আলাপ করি আমি একেবারে সিওর আপনি ৩২ পৃষ্ঠার চুক্তি পড়েন নাই পড়লে বুঝেন নাই। আপনি কি করে বলেন, এই চুক্তি বাতিল করা যাবে না, এটা কোনো কার্যকরী হয় নাই আইন অনুযায়ী। আপনি চুক্তিটি পড়েন নাই ভাই।

চুক্তি বাতিল করার ওখানে বলা হয় নাই ৬০ দিনের নোটে চুক্তি করা যাবে আর তার চেয়ে বড় কথা এই চুক্তি কার্যকর করার আগে আরো কিছু ব্যাপার আছে সেগুলো জানেন, আপনি পড়েন না আরেকটা জায়গায় উনি বলেছেন যে এটা নিয়ে আমি ডিটেল আলাপ করব। উনি বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিতে দেশের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো ধারা থাকলে তার সংশোধনের সুযোগ রয়েছে বলেছেন, ঠিক কথা আমি মানলাম এটা সংশোধনের সুযোগ না চুক্তি বাতিলের সুযোগ আছে তারপরে মানলাম উনি বলেছেন, সংশোধনের সুযোগ রয়েছে খুব ভালো। কিন্তু মুক্তাদির সাহেব আপনার কাছে আমার প্রশ্ন চুক্তি হয়েছে নির্বাচনের আগে ফেব্রুয়ারি মাসের ৯ তারিখে আর আজকে মে মাসের ৯ তারিখ আসতেছে কালকে তিন মাস হয়ে গেছে এই তিন মাসে আপনি যদি চুক্তিটা পড়ে থাকেন তাহলে দেশের স্বার্থের পরিপন্থী কোন কোন ধারা আছে সেটা কি আপনি খেয়াল করার কথা না আপনার অথবা আপনারা যারা সচিব আছেন আপনার যারা এক্সপার্ট আছেন তাদের কি আপনি জিজ্ঞাসা করেছেন এখানে দেশের স্বার্থের পরিপন্থী কি কি পয়েন্ট আছে আপনি জিজ্ঞাসা করেছেন যদি থাকে তাহলে করা যাবে।

আপনি তিন মাসেও বুঝতে পারেন নাই, দেশের সব মানুষ বুঝে ফেলাইছে আপনি বুঝতে পারেন নাই। আপনি এত ব্যস্ত হয়ে গেছেন যে চুক্তির ওপর দেশের মানে ভবিষ্যৎ নির্ভর করতেছে সেই চুক্তিতে আছে কি নাই দেশের স্বার্থ স্বার্থের পরিপন্থী কোনো ধারা আছে কি নাই এটা আপনি এখনো জানেন না। এখন আপনি যদির মধ্যে আছেন যে যদি থাকে তবে করব কি আছে না আছে আপনি জানেন না। আপনি মন্ত্রী হয়েছেন মানে কি আপনি দেশের জনগণের সেবক হয়েছেন আপনি মালিক হন নাই, আপনি এই দেশের যত বাণিজ্য স্বার্থ আছে সেটা যাতে দেশের মানুষের কল্যাণে হয় যেটা মানুষের অনুকূলে হয় সেটা দেখার দায়িত্ব আপনাকে দেওয়া হয়েছে। আর আপনি জানেনই না চুক্তির মধ্যে কিছু আছে আপনি এখনো যদির মধ্যে আছেন আমি সিম্পল আপনাকে দুইটা খাতের কথা বলি। এত আলোচনায় যাব না। এত সময়ও নাই। ওষুধ খাত এবং কৃষি খাত। এই দুইটা কথা আমি বলি আপনাদেরকে। এই চুক্তি হলে পরে ওষুধ খাতের কি হবে? কেন আমি বলি আপনি মিলায় নিয়েন পরে। এক নম্বর যে ডিটেলে যাব না। অত মানে তাত্ত্বিক অত টেকনিক্যাল পয়েন্টে যাব না। আমি সোজা কথাটা বলি। এই ওষুধটা এ চুক্তিটা যদি বাস্তবায়িত হয় তাহলে আমাদের এখানে দেশের যারা ওষুধ শিল্পে আছে তারা জেনেরিক সংস্করণ ওষুধের করতে পারবে না, জেনেরিক সংস্করণ কি আমি বুঝাই। তখন আপনাকে কঠোর প্যাটেন্ট আইন মেনে চলতে হবে কিন্তু জেনেরিক সংস্করণটাকে এক্সাম্পল দেই এই যে আমরা নাপা খাই না নাপা এস খান তো আপনারা সবাই খান এটার জেনেরিক নাম হল প্যারাসিটামল এই প্যারাসিটামল ওষুধটা একেকজন একেক নামে বের করে।

আমাদের দেশে কয়েক শ ওষুধ কম্পানি আছে। দেখা যাবে বড় বড় কয়েকটা কম্পানি ছাড়া বাকিগুলো টিকতেই পারবে না। আমি এই ওষুধ দিয়ে আরেকদিনে হয়তো একটা কন্টেন্ট করব।

কি অবস্থা হবে? ডায়াবেটিসের ওষুধ, ক্যান্সারের ওষুধ আমাদের সাধারণ মানুষ কিনতেই পারবে না।

টাকা কোথায় আমাদের? এটা উনি বলতেছেন যদি থাকে এটা সহজ জিনিস বুঝেন না আপনারা। যদি মানে কি? আবার আপনি ভাবেন তো যে কৃষিতে কি হবে? কৃষি খাতে যদি মার্কিন কৃষিপণ্য এখানে ঢোকে তাহলে আমাদের গম ভুট্টা সয়াবিন, পণ্য মুরগির ফিড এগুলো কিন্তু স্থানীয় বাজারে আমরা যেভাবে কিনি এখন সেভাবে কিনতে পারব না। এরপরে একটা প্রেশার পড়বে স্থানীয় কৃষকরা প্রতিযোগিতা টিকতে পারবে না তবে বীজ কীটনাশক এগুলোর ওপর বিদেশি কম্পানির আধিপত্য বেড়ে যাবে স্টেট কথা যে আমাদের কৃষিতে আমদানি নির্ভর বাড়বে। যখন আমদানি নির্ভরতা বাড়বে তখন যদি কখনো কোথাও যুদ্ধ লাগে তখন ডলারের দাম বেড়ে যাবে। তখন আমদানির ওপর আরো চাপ পড়বে। মানে পুরো দেশটার অর্থনীতিকে বিকলাঙ্গ করে দেওয়ার মতো অনেক ধারা অনেক নিয়ম কানুন এই চুক্তির মধ্যে আছে। আমরা সেটা হাসি মুখে স্বীকার করে নিয়ে নাচতে নাচতে চলে আসছি। আমাদের এই শেখ বশির আর এই যে খলিলুর রহমান। আর আমাদের মুক্তাদির সাব বলতেছেন যদি থাকে তবে দেখব। হায়রে মন্ত্রী, হায়রে দেশ, হায়রে জনগণ।

টিজে/টিএ

মন্তব্য করুন