© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ৫৯ বছর আগের ‘ইতিহাস’ ফিরিয়ে আনলেন শুভেন্দু

শেয়ার করুন:
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ৫৯ বছর আগের ‘ইতিহাস’ ফিরিয়ে আনলেন শুভেন্দু

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:০৮ এএম | ০৯ মে, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ৫৯ বছর পর ফিরে এল ১৯৬৭ সালের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র অজয় কুমার মুখোপাধ্যায়ের পর দ্বিতীয় কোনো নেতা হিসেবে ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রীকে পরাজিত করে রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার (৯ মে) ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিবেন তিনি।

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি এক বিরল ঘটনা।

এর আগে ১৯৬৭ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল চন্দ্র সেনকে তার নিজের কেন্দ্র আরামবাগে পরাজিত করেছিলেন অজয় মুখোপাধ্যায়। ঠিক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল ২০২৬- এ।

শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীপুরে ১৫,৫০৫ ভোটে পরাজিত করেছেন। শুধু তাই নয়, অজয় মুখোপাধ্যায়ের মতো তিনিও মেদিনীপুরের নিজস্ব গড় এবং মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র- এই দুই আসনেই জয়লাভ করে বিধানসভায় প্রবেশ করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই নেতার উত্থান ও কৌশলের মধ্যে রয়েছে অদ্ভুত মিল। অজয় মুখোপাধ্যায় কংগ্রেস ত্যাগের আগে সেচমন্ত্রী ছিলেন। শুভেন্দু অধিকারীও তৃণমূল ত্যাগের আগে সেচ দপ্তরের দায়িত্বেই ছিলেন। ১৯৬৭ সালে খাদ্য সংকট ও ‘কাঁচকলা মন্ত্রিসভা’র বিরুদ্ধে জনরোষকে কাজে লাগিয়েছিলেন অজয় বাবু।

অন্যদিকে, ২০২৬- এ দুর্নীতির অভিযোগ ও পরিবর্তনের আবেগকে হাতিয়ার করেছেন শুভেন্দু। শুক্রবার (৮ মে) বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকে শুভেন্দুকে সর্বসম্মতিতে নেতা নির্বাচিত করা হয়।

ইতিহাস বলছে, অজয় মুখোপাধ্যায়ের জোট সরকার (যুক্তফ্রন্ট) অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তবে শুভেন্দু অধিকারীর সামনে সেই সংকট নেই। ২০৭টি আসন নিয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে একক শক্তিতে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি।

নিজের নতুন দায়িত্ব নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমি নয়, আমরা’- এই মন্ত্রেই কাজ হবে। কথা কম, কাজ বেশি করবে নতুন সরকার। ভয়ের পরিবেশ কাটিয়ে রাজ্যে ‘ভরসার পরিবেশ’ গড়ে তোলাই তার প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি জানান।

সূত্র : দ্য ওয়াল

এসকে/টিএ

মন্তব্য করুন