ইরান যুদ্ধ নিয়ে এখন নিজেই ‘বিরক্ত’ ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত
১১:২৮ এএম | ০৯ মে, ২০২৬
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উসকানিতে ইরান যুদ্ধ শুরু করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এই যুদ্ধ নিয়ে এখন তিনি নিজেই ‘বিরক্ত’ হয়ে পড়েছেন। এমনটাই জানিয়েছেন তার এক উপদেষ্টা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দি আটলান্টিকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলের সঙ্গে ইরানে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি সপ্তাহে এই সংঘাত তৃতীয় মাসে গড়িয়েছে। এই যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনো লক্ষ্যই পূরণ করতে পারেনি ট্রাম্প প্রশাসন।
শুক্রবার (৮ মে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প শুরুতে ভেবেছিলেন ইরানের পরিস্থিতিও ভেনেজুয়েলার মতো সহজ হবে। গত ৩ জানুয়ারি তিনি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানোর অনুমতি দিয়েছিলেন। সেই অভিযানে মার্কিন সেনাবাহিনী দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়।
ভেনেজুয়েলায় সফল অভিযানের পর ট্রাম্প মনে করেছিলেন, মার্কিন সেনাবাহিনী ‘অপ্রতিরোধ্য’ এবং ইরানের আলি খামেনি সরকারকেও সহজে ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে তেমনটা ঘটেনি। বরং সামরিক অভিযান চালানোর পর পরিস্থিতি আরও অনেক জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মধ্যেও ইরান আরও অন্তত তিন থেকে চার মাস টিকে থাকতে পারবে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে সীমাবদ্ধতা দেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এই অবরোধ আরোপ করে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এক উপদেষ্টা বলেন, ‘ধৈর্য ট্রাম্পের শক্তি নয়। তিনি যুদ্ধ নিয়ে এখন বিরক্ত।’ অন্যরা মনে করেন, ইরানের অনড় অবস্থান তাকে হতাশ করছে।
এদিকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামও বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালনে বেড়ে ৪.৫৫ ডলারে পৌঁছেছে।
এতে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দল বেশ চাপের মুখে পড়েছে। অনেক রিপাবলিকান নেতার আশঙ্কা, যুদ্ধ চলতে থাকলে তারা শুধু কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদই নয়, উচ্চকক্ষ সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্প আবার বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু করতে অনিচ্ছুক। যদিও গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে।
দি আটলান্টিক আরও লিখেছে, ট্রাম্প বারবার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ইরানকে চাপ দিতে চাইছেন। কিন্তু তেহরান তার হুমকিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প নতুন হামলার হুমকি দিলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিবারই পিছু হটেছেন। তার ঘনিষ্ঠদের বেশিরভাগই নতুন করে যুদ্ধ শুরু করতে আগ্রহী নন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে যে, দ্রুত হ্রাসমান অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের সরবরাহ এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ক্রমবর্ধমানভাবে উদ্বিগ্ন, বিশেষ করে যখন হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং উপসাগরীয় মিত্ররা ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছে।
টিজে/টিএ