© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আমরা ক্ষমতায় এসেছি এখন যা খুশি করতে পারি, এমন চিন্তা মনেও রাখবেন না: তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন:
আমরা ক্ষমতায় এসেছি এখন যা খুশি করতে পারি, এমন চিন্তা মনেও রাখবেন না: তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:২২ পিএম | ১০ মে, ২০২৬
এবারের তামিলনাড়ু নির্বাচনে ১০৮ টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে বিজয় থালাপতির দল টিভিকে জয়ী হলেও তার মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেয়াটা সহজ ছিল না। প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় টানা কয়েকদিন নাটকীয়তায় আটকে ছিল তার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথ। অবশেষে কংগ্রেস ও কয়েকটি ছোট দলের সমর্থন পেয়ে ১১৮ ম্যাজিক সংখ্যা স্পর্শ করে টিভিকে।

রোববার (১০ মে) সকালে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সি জোসেফ বিজয়। এরপর তিনি তিনটি ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন, যেগুলো তিনি চেয়েছিলেন রাজ্যবাসী যেন প্রথমে দেখে: গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য ২০০ ইউনিট বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, হেল্পলাইনসহ নারী সুরক্ষার জন্য একটি বিশেষ বাহিনী এবং রাজ্যব্যাপী একটি মাদকবিরোধী ব্যবস্থা।

এরপর তিনি উল্লসিত জনতার সামনে উঠে দাঁড়ালেন এবং তার নবীন প্রশাসনের সবচেয়ে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাটি দিলেন। বিজয় বললেন, ‘কেউ যেন এমনটা না ভাবেন যে, আমরা ক্ষমতায় এসেছি বলেই এখন যা খুশি তাই করতে পারি। এমন চিন্তা মনেও রাখবেন না। সব ঝেড়ে ফেলুন। ক্ষমতার কেন্দ্র একটাই থাকবে, আর সেটা আমি।’

তামিলনাড়ুর একজন মুখ্যমন্ত্রীর জন্য এটি ছিল এক ব্যতিক্রমী প্রথম দিন, যা ছিল রাজনৈতিক পালাবদল, গণ-প্রদর্শনী এবং একজন তারকা ও তার দর্শকের মধ্যে কয়েক দশক দীর্ঘ চলচ্চিত্র সম্পর্কের আবেগঘন সমাপ্তির এক আবহ।

আর বিজয় নিজেকে অন্য কিছু হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছিলেন: তা হলো, এমন একজন মানুষ যিনি একটি বিধ্বস্ত রাজ্যের উত্তরাধিকারী হয়েছেন এবং তা পুনর্গঠনের জন্য সময় চাইছেন।

‘রাজ্যটি এক শোচনীয় অবস্থায় পড়ে আছে,’ বিজয় বলেন এবং পূর্ববর্তী ডিএমকে সরকারের আমলে তামিলনাড়ুর আর্থিক অবস্থার ওপর একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দেন। ‘আমি প্রথমে শ্বেতপত্রটি প্রকাশ করব। পূর্ববর্তী সরকার আমাদের ওপর ১০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ রেখে গেছে।’

বিজয়ের বক্তৃতাটি ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ এবং প্রশাসনিক সতর্কবার্তা নিয়ে করা হচ্ছিল। কারণ বিজয় একজন সহকারী পরিচালকের ছেলে হিসেবে বেড়ে ওঠেছেন। ‘দারিদ্র্য ও ক্ষুধা’ চেনা এবং ‘রাজবংশীয়’ না হওয়ার কথা বলেন তিনি। তিনি শ্রোতাদের মনে করিয়ে দেন যে, সিনেমায় প্রবেশের আগে তাকে অপমান ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের ছেলের মতো, আপনাদের ভাইয়ের মতো। আপনারা আমাকে আপনাদের হৃদয়ে স্থান দিয়েছেন।’

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি এমনভাবে এগিয়ে চলে, যেন একটি রাজনৈতিক সমাবেশ ও একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী একই ফ্রেমে মিশে গেছে। সকাল ৯টার মধ্যেই স্টেডিয়ামটি টিভিকে কর্মী, চলচ্চিত্রপ্রেমী, সহযোগী এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের দিয়ে ভরে উঠতে শুরু করেছিল। অভিনেত্রী তৃষা এসে পৌঁছালেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দিল্লি থেকে উড়ে এসে মঞ্চে নিজের আসনে বসলেন। বিজয়ের বাবা-মা দর্শকদের মধ্যে বসেছিলেন। বিশাল পর্দায় উল্লসিত সমর্থকদের জন্য দৃশ্য সম্প্রচারের মধ্যেই টিভিকে-র ঊর্ধ্বতন নেতারা মঞ্চে আসা-যাওয়া করছিলেন।

এদিকে, রোববার সকাল ১০টা ২৪ মিনিটে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার বিজয়কে শপথবাক্য পাঠ করান। বিজয় প্রস্তুতকৃত ভাষণ থেকে ক্ষণিকের জন্য বিচ্যুত হলেও, রাজ্যপাল তাকে নম্রভাবে সরকারি লিখিত বিধান অনুসরণ করতে বললে তিনি তা করেন।

আইকে/টিএ

মন্তব্য করুন