মা দিবসে মাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ সুদীপ্তার
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৪৬ পিএম | ১০ মে, ২০২৬
বাংলা ধারাবাহিকের পরিচিত মুখ ও সঞ্চালিকা হিসেবে দর্শকমহলে জনপ্রিয় সুদীপ্তা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার মাতৃদিবসে নিজের মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক, শৈশবের স্মৃতি এবং জীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। সম্প্রতি একটি রান্নার শো সঞ্চালনা করতে দেখা যাচ্ছে এই অভিনেত্রীকে, আর সেই কাজের অভিজ্ঞতাও তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে উঠে এসেছে এই সাক্ষাৎকারে।
মায়ের গুরুত্ব নিয়ে বলতে গিয়ে সুদীপ্তা জানান, তাঁর কাছে মা মানে শুধু একজন মানুষ নয়, বরং তাঁর অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। বাবাকে হারানোর পর মাকে ভালো রাখাই এখন তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মায়ের হাতের সেমাইয়ের পায়েস, এঁচোড় চিংড়ি ও মাছের নানা পদ তাঁর শৈশবের অমূল্য স্মৃতি হিসেবে রয়ে গেছে।
রান্না প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগের দিনে মায়েরাই সংসারের সব দায়িত্ব সামলাতেন, কিন্তু এখন সময় বদলেছে। তাঁর মতে, মা হওয়া বা রান্নাঘরের দায়িত্ব নেওয়া কোনো বাধ্যবাধকতা নয়, বরং এটি সময় ও পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল একটি বিষয়।
মায়ের কাছ থেকে পাওয়া জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন সহ্যশক্তি, লড়াইয়ের মানসিকতা এবং সততা। তাঁর ভাষায়, “চেষ্টা করে যেতে হবে, দিন একদিন ঠিক আসবে”—এই মানসিকতাই মায়ের কাছ থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় শক্তি।

ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গেও খোলামেলা ছিলেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, ছোটবেলায় তিনি খুব দুরন্ত ছিলেন এবং পড়াশোনায় অনিয়মিত থাকায় মায়ের কাছ থেকে শাসনও পেয়েছেন। তবে তাঁর পরিবারের পরিবেশ ছিল সহানুভূতিশীল এবং সংস্কৃতিমনা, যেখানে গান ও শিল্পচর্চার সুযোগ সবসময় ছিল।
বিয়ের পর জীবন বদলেছে কি না- এই প্রশ্নে তিনি জানান, কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনকে ব্যালান্স করতে শ্বশুরবাড়ির সমর্থন তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি তিনি বিশ্বাস করেন, পরিবারে সম্মান ও বোঝাপড়া থাকলে সম্পর্ক আরও সুন্দর হয়।
মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তিনি আরও জানান, মায়ের সঙ্গে ঝগড়া হলেও বেশিরভাগ সময় তিনিই আগে এগিয়ে গিয়ে কথা মিটিয়ে নেন। মায়ের অভ্যাসের মধ্যে অনেক কিছু নিজের মধ্যেও এসেছে বলে স্বীকার করেন তিনি, বিশেষ করে সাজগোজের প্রতি ভালোবাসা এবং শাড়ির প্রতি আকর্ষণ।
রান্নার শোয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের জীবনের সংগ্রাম কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন এই কাজের মাধ্যমে, যা তাঁকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করছে।
সব মিলিয়ে মাতৃদিবসে সুদীপ্তার এই বক্তব্যে উঠে এসেছে এক মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শৈশবের স্মৃতি, নারীর সংগ্রাম এবং জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার গভীর প্রতিচ্ছবি।
এসএ/টিএ