‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া’র স্মৃতিতে আবেগঘন অনুপম খের!
ছবি: সংগৃহীত
০৩:১১ পিএম | ১১ মে, ২০২৬
তিন দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ যেন আজও ভারতীয় সিনেমাপ্রেমীদের আবেগের আরেক নাম। শাহরুখ খান আর কাজলের সেই অমর প্রেমকাহিনি এখনও নতুন প্রজন্মের কাছেও সমান জনপ্রিয়। আর এবার সেই ছবির স্মৃতিবিজড়িত শুটিং লোকেশনে ফিরে গিয়ে আবেগে ভাসলেন অভিনেতা অনুপম খের।
সম্প্রতি অন্য একটি কাজের সূত্রে মহারাষ্ট্রের সেই বিখ্যাত রেললাইনের ধারে পৌঁছেছিলেন তিনি, যেখানে শুট হয়েছিল ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’-র সবচেয়ে স্মরণীয় ট্রেনের দৃশ্য। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে পুরনো স্মৃতি যেন হু হু করে ফিরে আসে অভিনেতার মনে। সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নেওয়া এক ভিডিওতে অনুপম বলেন, এত বছর পর একই জায়গায় আবার শুটিং করতে পেরে তিনি ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন।
পর্দায় সেই দৃশ্য আজও দর্শকের মনে অমলিন। চলন্ত ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে রাজ, আর পিছন থেকে দৌড়ে আসছেন সিমরন। তারপর বাবার সেই বিখ্যাত সংলাপ, “জা সিমরন জা, জি লে অপনি জ়িন্দগী।” ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এই দৃশ্য যেন এক অনন্য মুহূর্ত হয়ে রয়ে গেছে।
অনুপম জানান, শুটিংয়ের সময় তাঁরা কেউই ভাবতে পারেননি যে শাহরুখ-কাজলের সেই দৃশ্য একদিন ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে আইকনিক মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে উঠবে। তাঁর কথায়, জীবনের সৌন্দর্যই এটাই, কোনও মুহূর্তের আসল মাহাত্ম্য অনেক সময় পরে বোঝা যায়।
এই স্মৃতিচারণের মাঝেই মহারাষ্ট্র সরকারের কাছে বিশেষ আবেদনও জানিয়েছেন অভিনেতা। তাঁর মতে, ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এমন গুরুত্বপূর্ণ শুটিং লোকেশনগুলো সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ এই জায়গাগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কোটি দর্শকের আবেগ ও স্মৃতি।
শুধু সংরক্ষণই নয়, অনুপমের প্রস্তাব এই ধরনের জায়গাগুলোকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা যেতে পারে। যাতে সিনেমাপ্রেমীরা সরাসরি সেই ইতিহাস ও আবেগের অংশ হয়ে উঠতে পারেন।

১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’ ছবির মাধ্যমেই পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন আদিত্য চোপড়া। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছবিটি শুধু একটি সিনেমা নয়, ভারতীয় জনপ্রিয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। আর সেই ছবির স্মৃতিবিজড়িত লোকেশনে দাঁড়িয়ে অনুপম খেরের আবেগ যেন ফের মনে করিয়ে দিল, কিছু সিনেমা কখনও পুরনো হয় না।
পিআর/টিকে