কোরবানি উপলক্ষ্যে নড়াইলে দেখা মিলল ‘বাহুবালীর’
ছবি: সংগৃহীত
০৯:২৬ পিএম | ১৪ মে, ২০২৬
নড়াইলে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খামারগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা গরু বিক্রি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। এরই মধ্যে জেলার কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের রাহুল-রিয়া এগ্রো ফার্মে ২২টি ষাঁড় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১টি সাহিওয়াল ও একটি ফ্রিজিয়ান সাহিওয়াল।
তবে এর মধ্যে আলাদাভাবে নজর কাড়ছে প্রায় ২৮ মণ ওজন, ১৪ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৬ ফুট উচ্চতার ‘বাহুবালী’। ১১শ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির ষাঁড়টিকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বিশাল দেহ, শান্ত স্বভাব ও রাজকীয় গঠনের কারণে ইতোমধ্যে এলাকাজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বাহুবালী। কোরবানির হাটে বাহুবালীর সম্ভাব্য দাম ধরা হয়েছে ১০ লাখ টাকা।
খামারি রিপন মিনা জানান, প্রায় আড়াই বছর ধরে নিজের সন্তানের মতো যত্ন করে ফ্রিজিয়ান সাহিওয়াল জাতের ষাঁড়টি লালন-পালন করেছেন তিনি ও তার স্ত্রী রোজিনা পারভীন। প্রতিদিন গোসল, পুষ্টিকর খাবার ও পরিচর্যার মাধ্যমে ধীরে ধীরে বড় করা হয়েছে বাহুবালীকে। তিনি বলেন, আমার খামারে আরও ২১টি গরু থাকলেও মূল আকর্ষণ এখন এই গরুটিই। এবারের কোরবানির হাটে অন্তত ১০ লাখ টাকা দাম আশা করছি।
রিপন মিনার স্ত্রী রোজিনা পারভীন বলেন, বাহুবালী বিশাল আকৃতির হলেও স্বভাবে অত্যন্ত শান্ত। প্রায় আড়াই বছর আগে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাট থেকে বাহুবলীকে কিনে খামারে এনেছিলাম। তখন ওজন ছিল ২০০ কেজি। যত্ন আর পুষ্টিকর খাবার পেয়ে ধীরে ধীরে বেড়েছে ষাঁড়টি। বিশাল দেহের কারণেই ভালোবেসে ষাঁড়টির নাম রাখা হয়েছে বাহুবলী। এর খাবারের তালিকায় রয়েছে খোল, ভুসি, খড়, চিটাগুড়, কাঁচা ঘাসসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাদ্য।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাহুবালী নাম এখন শুধু খড়রিয়া গ্রামেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাসহ দূরদূরান্ত থেকে মানুষ গরুটি দেখতে ভিড় করছেন খামারটিতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ সম্ভাব্য দাম ও ওজন নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
নড়াইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রাশেদুল হক বলেন, আমরা জানতে পেড়েছি বাহুবালীই জেলার সবচেয়ে বড় গরু। প্রত্যাশা করছি, খামারি ন্যায্যমূল্য পাবেন। খামারটিতে তিনি প্রাকৃতিক উপায়ে পশু লালন-পালন করছেন বলেই জানি।
এসকে/টিকে