আমরা ফটোকার্ডের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই: প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৩৭ পিএম | ১৪ মে, ২০২৬
বিগত সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, অতীতে যেসব পরিকল্পনা নেওয়া হতো, সেগুলো প্রকাশের দিনই মৃত (ডেথ অন অ্যারাইভাল) বলে গণ্য হতো। আগের সরকার জনরায়হীন হওয়ায় ইচ্ছেমতো প্রকল্পে অর্থ ব্যয় করে জনগণকে ঋণের জালে নিমজ্জিত করেছে। আমরা কোনো ফটোকার্ডের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই, বরং জনরায় ও জবাবদিহিমূলক বাস্তবভিত্তিক রাজনীতি করছি।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক কৌশল প্রণয়ন সংক্রান্ত অ্যাডভাইজরি কমিটির দ্বিতীয় সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
সাবেক উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিতুমীর। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মনজুর হোসেন।
অর্থ উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বিগত দিনের উন্নয়ন দর্শনের গলদ তুলে ধরে বলেন, আগের পরিকল্পনাগুলোতে ব্যাপক কাঠামোগত ত্রুটি ছিল, যার ফলে বাস্তবায়নের হার ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। প্রকল্পে সঠিক সময়ে প্রকল্প পরিচালক বা পিডি নিয়োগ দেওয়া হতো না এবং বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো ছিল নিয়মিত চিত্র। এমনকি একটি প্রকল্প চারবার পর্যন্ত সংশোধন করার নজিরও রয়েছে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, অতীতে বালিশ কাণ্ডের মতো লজ্জাজনক ঘটনাও ঘটেছে যা জবাবদিহিতার অভাবে সম্ভব হয়েছে। আগে পরিকল্পনা কমিশনের মূল কাজ ছিল কেবল ৫০ কোটি টাকার নিচের প্রকল্প দ্রুত পাস করা এবং মন্ত্রণালয়ের ইচ্ছামতো তৈরি করা প্রকল্পে রাবার স্ট্যাম্প হিসেবে সিল দেওয়া। বর্তমান সরকার পরিকল্পনা কমিশনকে আরও শক্তিশালী ও পেশাদার প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করবে।
দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি নিয়ে তিতুমীর বলেন, বর্তমান সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এই লক্ষ্য অর্জনে ইতোমধ্যে যে খসড়া তৈরি করা হয়েছে, তা দেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। নতুন এই পরিকল্পনা কেবল কাগুজে দলিলে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি আইনের শাসন, রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা এবং প্রকৃত জনকল্যাণ নিশ্চিত করবে।
তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতিটি প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে এবং জনগণের অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে যাতে দেশি-বিদেশি ঋণের বোঝা আর দীর্ঘায়িত না হয়। সভায় উপস্থিত অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির টেকসই কাঠামোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এসকে/টিকে