বাবরি মসজিদের ইস্যু তুলেছিলাম বলে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে: হুমায়ুন কবীর
ছবি: সংগৃহীত
১২:৫৫ এএম | ১৫ মে, ২০২৬
‘বাবরি মসজিদের ইস্যু তুলেছিলাম বলে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় এসেছে’, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় শপথ অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তিনি পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ স্থাপনের মূল উদ্যোক্তা।
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বাবরি মসজিদ ইস্যুকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ডেড এই বিধায়ক রেজিনগর ও নওদা দুটি বিধানসভার আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। গত বুধবার (১৩ মে) নওদা আসন থেকে বিধায়ক হিসেবে শপথ নেন তিনি। ছেড়ে দেন রেজিনগর আসনটি।
শপথ অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিধানসভার লবিতে দাঁড়িয়ে এই বিধায়ক বলেন, ‘বাবরি মসজিদ রাম মন্দির করে বিজেপি ভারতবর্ষের ক্ষমতায় এসেছে। বাবরি মসজিদের ইস্যু তুলেছিলাম বলে বাবরি মসজিদের বিরোধিতা করে ২০৭-এ পৌঁছেছে বিজেপি। আবার লোকসভায় ২৯-১২-১ আছে ( ২৯ তৃণমূল কংগ্রেস, ১২ বিজেপি, ১ কংগ্রেস)।’
‘লোকসভার টাইমে এই বাবরি মসজিদ তৃণমূলকে ফিনিশ করবে । বিজেপিকে মাইলেজ দেবে। আর বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করে আমি কতটা মাইলেজ পাবো, দেখার জন্য অপেক্ষা করুন’-যোগ করেন তিনি।
হুমায়ুন আরও বলেন, ‘লোকসভায় আমার দল একাই লড়াই করবে। আমি কোনও পার্টির সঙ্গে নেই।’ এসময় নিজের পূর্বতন দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রীতিমত বন্দনা করে বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২১ সালে বর্তমান যিনি মুখ্যমন্ত্রী তার কাছে ১৯৫৬ ভোটে হেরেছিলেন। তারপরও ওনাদের ঔদ্ধত্য কমেনি। তারা মুখে মা মাটি মানুষের নেত্রী আর বাস্তবে কোনও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন না। ক্যাবিনেটের সদস্যদের সঙ্গে পাঁচ মিনিট কথা বলতেন না।’
হুমায়ুন বলেন, ‘তৃণমূল তো হেরে ফিনিশ। তাদের বিরুদ্ধে আর কে থাকবে। ছয় মাস অপেক্ষা করুন, তৃণমূল বলে কিছুই থাকবে না। আগামী নির্বাচনগুলো দেখবেন তৃণমূলের টিকিট নিয়ে কেউ লড়ার নাম করবে না।’
২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের বেলেডাঙ্গায় বাবরের নামে মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন এই হুমায়ুন কবীর। তিনি তখন ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক। এরপরই দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে তৃণমূল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর বাধা, আপত্তি, বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাবরি মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু করেন হুমায়ুন কবীর। পরবর্তীতে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি) নামে একটি দলও গঠন করেন তিনি।
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভার নির্বাচনে একাধিক আসনে প্রার্থীও দেয় তারা। তবে একমাত্র হুমায়ুন কবীরই দলের প্রার্থী হিসেবে রেজিনগর ও নওদা এই দুই আসন থেকে জয়ী হন।
যদিও বাবরি মসজিদ নির্মাণ, নতুন রাজনৈতিক দল গঠন ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নিয়ে হুমায়ুনকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কেউ তাকে বিজেপি’র বি-টিম বলে কটাক্ষ করেছিল, কারও অভিযোগ ছিল তিনি তৃণমূলের বি-টিম হয়ে কাজ করছেন।
টিজে/টিএ