© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ফাস্ট ফ্যাশনের অন্ধকার উন্মোচনে কেট ব্ল্যানচেট

শেয়ার করুন:
ফাস্ট ফ্যাশনের অন্ধকার উন্মোচনে কেট ব্ল্যানচেট

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:১৯ পিএম | ১৬ মে, ২০২৬
বিশ্বজুড়ে ফ্যাশন শিল্প মানেই ঝলমলে র‌্যাম্প, বিলাসী ব্র্যান্ড আর নতুন নতুন ট্রেন্ডের উৎসব। কিন্তু এই চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে পরিবেশ দূষণ, শ্রমিক শোষণ এবং অমানবিক উৎপাদন ব্যবস্থার কঠিন বাস্তবতা। সেই অন্ধকার দিককেই এবার বড় পর্দায় তুলে আনতে চলেছেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী কেট ব্ল্যানচেট। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ডার্টি পিকচার্স যুক্ত হয়েছে নতুন প্রামাণ্যচিত্র ‘ফ্যাশনপলিশ’র সঙ্গে। ডকুমেন্টারিটি নির্মাণ করছেন খ্যাতিমান নির্মাতা রেইনার হলজেমার। এটি তৈরি হচ্ছে লেখক ও সাংবাদিক ডানা থমাসের বহুল আলোচিত বই ‘ফ্যাশনপলিশ : দ্য প্রাইস অফ ফাস্ট ফ্যাশন অ্যান্ড দ্য ফিউচার অফ ক্লথস’ অবলম্বনে।

বর্তমানে বিশ্ব ফ্যাশন শিল্পের বাজারমূল্য প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ইউএস ডলার। দ্রুত উৎপাদন, কম দামে পোশাক বিক্রি এবং ক্রমাগত নতুন ট্রেন্ড তৈরির প্রতিযোগিতাই এখন ‘ফাস্ট ফ্যাশন’র মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু এর ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে পরিবেশ ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর। নদী দূষণ, বিপুল কার্বন নিঃসরণ, বর্জ্যরে পাহাড় এবং কম মজুরিতে শ্রমিকদের অমানবিক কাজ-সব মিলিয়ে এই শিল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা চলছে। ‘ফ্যাশনপলিশ’ সেই বাস্তবতাকে সামনে আনবে। একইসঙ্গে দেখাবে এমন কিছু ডিজাইনার, উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকের গল্প, যারা ফ্যাশন শিল্পকে আরও পরিবেশবান্ধব ও মানবিক করে তুলতে কাজ করছেন। নির্মাতাদের ভাষায়, এটি শুধু সমস্যার গল্প নয়; বরং পরিবর্তনের সম্ভাবনার গল্পও।



ডকুমেন্টারিটিতে অংশ নেবেন ফ্যাশন জগতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। থাকবেন ডিজাইনার, নীতিনির্ধারক, শ্রম অধিকারকর্মী এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবকরা। তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামতের মাধ্যমে দর্শক বুঝতে পারবেন, ফ্যাশনের চকচকে দুনিয়ার ভেতরে কী ধরনের সংকট কাজ করছে এবং সেই সংকট কাটিয়ে ওঠার পথ কোথায়।

কেট ব্ল্যানচেট দীর্ঘদিন ধরেই পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে কাজ করছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে তিনি বারবার পুরোনো পোশাক পুনরায় ব্যবহার করে টেকসই ফ্যাশনের পক্ষে বার্তা দিয়েছেন। তাই ‘ফ্যাশনপলিশ’র মতো একটি প্রকল্পে তার যুক্ত হওয়া অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে পরিচালক রেইনার হলজেমার ফ্যাশনভিত্তিক ডকুমেন্টারি নির্মাণে বেশ পরিচিত নাম। তার আগের কাজের মধ্যে রয়েছে ‘মার্টিন মারজেইলা : ইন হিজ ওউন ওয়ার্ডস’ এবং ‘ড্রাইস’। ফ্যাশনের সৃজনশীল ও মানবিক দিককে ক্যামেরায় তুলে ধরার জন্য তিনি বিশেষভাবে প্রশংসিত। লেখক ডানা থমাসও দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাশন শিল্পের টেকসই ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করছেন। তার বই ‘ফ্যাশনপলিশ’ প্রকাশের পর ব্যাপক প্রশংসা পায়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট বইটিকে টেকসই ফ্যাশন নিয়ে সেরা বইগুলোর একটি হিসাবে উল্লেখ করেছিল।

পরিচালক হলজেমার জানিয়েছেন, ডকুমেন্টারির গল্পে তিনি কাউকে দোষারোপ করতে চান না। বরং এমন কিছু গল্প তুলে ধরতে চান, যা মানুষকে ভাবাবে এবং পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা দেবে। ডানা থমাসও মনে করেন, সাধারণ মানুষের ছোটো ছোটো সিদ্ধান্ত, যেমন সচেতনভাবে পোশাক কেনা বা পুনর্ব্যবহার, ভবিষ্যতের ফ্যাশন শিল্পকে বদলে দিতে পারে। ফ্যাশন মানেই শুধু সৌন্দর্য নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পৃথিবীর ভবিষ্যৎও, ‘ফ্যাশনপলিশ’ মূলত এই বার্তাই পৌঁছে দেবে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের কাছে।

এসএ/টিএ

মন্তব্য করুন