অনলাইন জুয়ার এজেন্টসহ আটক ৪
ছবি: সংগৃহীত
১১:৪৩ এএম | ১৭ মে, ২০২৬
মেহেরপুরে অনলাইন জুয়া ও অবৈধ ই-ট্রানজেকশন চক্রের বিরুদ্ধে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) চিরুনি অভিযানে এক কথিত জুয়ার এজেন্টসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) রাতভর মেহেরপুর সদর ও গাংনী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী।
আটকরা হলেন- রাফসান জনি রিপন (৩২), ফাহাদ হাসান জুনায়েদ (১৯), বায়েজিদ ডালিম (৩০) ও রকিবুল ইসলাম (৩৫)। অভিযানে তাদের কাছ থেকে একাধিক আধুনিক স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা এসব ফোনে অনলাইন জুয়ার একাধিক অ্যাকাউন্ট, ই-মেইল আইডি ও অবৈধ ডলার লেনদেনের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরীর সরাসরি তদারকিতে ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। প্রথমে সদর উপজেলার চাঁদবিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে বায়েজিদ ডালিমকে আটক করা হয়। তার ব্যবহৃত স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড-৫ মোবাইল ফোনটি পরীক্ষা করে বাইন্যান্স অ্যাপের মাধ্যমে অবৈধ ডলার কেনাবেচা এবং অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ করার তথ্য পায় পুলিশ।
পরে বায়েজিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুজিবনগর উপজেলার পুরন্দরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে রকিবুল ইসলামকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ওপো ও ভিভো ব্যান্ডের দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। এই ফোন দুটি যাচাই করেও অনলাইন জুয়া খেলা এবং বাইন্যান্সের মাধ্যমে অবৈধ ডলার লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।
এদিকে ডিবির আরেকটি দল সদর উপজেলার গাড়াডোব এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল এজেন্ট রাফসান জনি রিপনকে আটক করে। তার ব্যবহৃত রেডমি নোট ১৪ প্রো মোবাইল ফোনটি প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করে ৩৭টি ই-মেইল আইডি এবং ২৯টি অনলাইন জুয়ার অ্যাকাউন্টের সন্ধান পায় পুলিশ। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমঝুঁপি এলাকা থেকে ফাহাদ হাসান জুনায়েদকে আটক করা হয়। জুনায়েদের ওপো এ-৩৮ মোবাইল ফোনটি পরীক্ষা করে সাতটি ই-মেইল আইডিসহ অনলাইন জুয়া সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা নিজেদের ও অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া পরিচালনা, জুয়ায় অংশগ্রহণ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই মোবাইল ব্যাংকিং ও বাইন্যান্স অ্যাপ ব্যবহার করে অবৈধ ই-ট্রানজেকশন (অর্থ লেনদেন) করার কথা স্বীকার করেছে।
কেএন/টিকে