গত ২০ বছরকে ‘তমসাচ্ছন্ন’ যুগ বললেন সংস্কৃতি মন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৩৯ পিএম | ১৭ মে, ২০২৬
গত ২০ বছরকে একটি তমসাচ্ছন্ন অন্ধকার যুগ হিসেবে আখ্যায়িত করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, এই অন্ধকার ভেদ করে আমরা নতুন প্রভাত ও নতুন সূর্যোদয় আনতে চাই। সব ধ্বংস হয়ে গেছে আমরা জানি, তবে এই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়েই আমরা জীবনের গান গাইতে চাই।
রোববার (১৭ মে) সকালে যশোরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান 'যশোর ইনস্টিটিউট লাইব্রেরি' পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখীর ঝড়, তোরা সব জয়ধ্বনি কর!' কবিতা স্মরণ করে সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, কালবোশেখী ঝড়ে সব ভেঙে তছনছ হয়ে গেলেও কবি যেমন তার মাঝে নতুনের কেতন দেখেছিলেন, আমাদেরও ঠিক সেভাবে বুক বেঁধে এগিয়ে যেতে হবে।
নতুন প্রজন্মকে বইমুখী ও পাঠাগারমুখী করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, মানুষকে পাঠাগারমুখী করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে পুনরায় গ্রন্থাগারে ফিরিয়ে আনতে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যৌথভাবে নানা ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করবে। একই সাথে পাঠাগারগুলোর পরিবেশকে আরও নান্দনিক ও আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা হবে।
যশোর ইনস্টিটিউট লাইব্রেরির সামগ্রিক উন্নয়ন ও সংস্কারের আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী আরো বলেন, আজকে আমি লাইব্রেরিটি ঘুরে যা দেখলাম, এর আধুনিকায়নে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে, তার ব্যবস্থা করে যাব। বরাদ্দের সুনির্দিষ্ট অঙ্কটি আমি প্রকাশ্য জনসমক্ষে বলতে চাই না, তবে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি যে লাইব্রেরির উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেয়া হবে।
লাইব্রেরি পরিদর্শনকালে সংস্কৃতি মন্ত্রীর সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর ইনস্টিটিউট লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক এ জেড এম সালেক, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলুসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী লাইব্রেরির বিভিন্ন প্রাচীন ও দুর্লভ গ্রন্থ সংকলন দেখেন এবং এর ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রক্ষায় সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইউটি/টিএ