© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা

শেয়ার করুন:
কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:০৫ পিএম | ১৭ মে, ২০২৬

মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গো ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া নতুন ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তবে সংস্থাটি এই প্রাদুর্ভাবকে এখনো মহামারি হিসেবে ঘোষণা করেনি। 

রোববার (১৭ মে) সংস্থাটি জানায়, এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইতুরি প্রদেশে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবটি ইবোলার বিরল বান্ডিবুগিও স্ট্রেইনের কারণে হয়েছে, যার এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

ডব্লিউএইচও জানায়, সংক্রমণ ইতোমধ্যে উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং কঙ্গোর রাজধানীতেও সংশ্লিষ্ট রোগী শনাক্ত হওয়ায় আঞ্চলিক ঝুঁকি বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো মহামারির মানদণ্ড পূরণ করেনি। এ কারণে দেশগুলোকে সীমান্ত বন্ধ বা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) জানায়, শনিবার (১৬ মে) পর্যন্ত ৮৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ৩৩৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এদিকে, প্রাদুর্ভাবের সূচনা হয় মঙ্গওয়ালু নামের একটি খনিশিল্প এলাকায়।

তারা আরও জানায়, জনসংখ্যার চলাচল, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং ইতুরিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। আফ্রিকা সিডিসি জানায়, ইবোলা একটি মারাত্মক ও প্রায় প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ।

১৯৭৬ সালে বর্তমান কঙ্গোর ইবোলা নদীর কাছে প্রথম এটি শনাক্ত হয়। ধারণা করা হয়, বাদুড়সহ বন্য প্রাণী থেকে এই ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এছাড়া রক্ত, বমিসহ শরীরের বিভিন্ন তরল বা দূষিত কাপড়-চোপড় ও বিছানার সংস্পর্শে এলে রোগটি ছড়াতে পারে। উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর থেকেই আক্রান্ত ব্যক্তি সংক্রামক হয়ে ওঠেন।

এদিকে কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রথম রোগী ছিলেন একজন নার্স। তিনি গত ২৪ এপ্রিল ইতুরির রাজধানী বুনিয়ার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইবোলার মতো উপসর্গ নিয়ে আসেন। অন্যদিকে উগান্ডায় কঙ্গো থেকে আসা ভ্রমণকারীদের মধ্যে দুটি পরীক্ষাগারে নিশ্চিত সংক্রমণ পাওয়া গেছে এবং রাজধানী কাম্পালায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

ডব্লিউএইচও এর প্রধান বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। কারণ সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর চলাচল, বাণিজ্য ও ভ্রমণ অব্যাহত রয়েছে এবং এখনো পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তিনি সীমান্তে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা এবং আক্রান্তদের দ্রুত আলাদা করার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ২১ দিন আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

আইকে/টিএ

মন্তব্য করুন