গুম রোধ ও মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রস্তাবিত আইন বাস্তবে কার্যকর হতে হবে: অ্যাটর্নি জেনারেল
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৫৫ এএম | ১৮ মে, ২০২৬
প্রস্তাবিত গুম সংক্রান্ত এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিষয়ক আইনগুলো কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রোববার বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম সংক্রান্ত বিষয়ে আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক অংশীজন সভায় আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দেশের আইন প্রণয়নের প্রচলিত ধারা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমাদের দেশে প্রায় প্রতিটি আইনেই একটি ওভাররাইডিং ক্লজ (অন্য আইনের ওপর প্রাধান্য পাওয়ার বিধান) যুক্ত করার প্রবণতা দেখা যায়। আমরা এমন আইন তৈরি করতে চাই, যা বাস্তবে প্রকৃতভাবে কার্যকর হবে। এটি কেবল লেখার জন্যই লেখা হওয়া উচিত নয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের অঙ্গীকারের প্রশংসা করে বলেন, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা এবং ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সরকার গুম থেকে সকল ব্যক্তিকে সুরক্ষার আন্তর্জাতিক কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে, যা প্রস্তাবিত এই আইনের শুরুতেই প্রতিফলিত হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের বিষয়ে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনো কর্তৃপক্ষকে কেবল নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেওয়ার চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য বজায় রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আইন মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী।
এ সময় সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গুমের শিকার বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদী, ‘মায়ের ডাক’ (গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের প্ল্যাটফর্ম)-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি (এমপি) এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার বক্তব্য রাখেন।
উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা গুম প্রতিরোধে বাস্তবসম্মত আইন প্রণয়নে গুম সংক্রান্ত অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তির মেয়াদ প্রণয়ন, তদন্তকারী কর্মকর্তার ন্যূনতম যোগ্যতার একটি মানদণ্ড প্রবর্তন ও এ অপরাধের সার্বিক বিচারিক কার্যক্রমকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধি সংযোজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আরআই/টিকে