© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আমার ও সালমান আগার আউট ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট: বাবর

শেয়ার করুন:
আমার ও সালমান আগার আউট ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট: বাবর

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৩৪ এএম | ১৮ মে, ২০২৬
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে চালকের আসরে বাংলাদেশ। বাবর আজমের ৬৮ রানের ইনিংস দিশা দেখাতে পারেনি সিরিজে পিছিয়ে পড়া পাকিস্তানকে। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে বাবর পাকিস্তানের ব্যাটিং পারফরম্যান্স, হারানো সুযোগ এবং টেস্ট ক্রিকেটে জুটি গড়ার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাবর স্বীকার করেন, ব্যাটিংয়ের জন্য অনুকূল উইকেট থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান ভালো শুরুকে বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারেনি। তিনি বলেন, 'উইকেট খুব ভালো ছিল এবং বল সুন্দরভাবে ব্যাটে আসছিল। কিন্তু আমরা বড় কোনো জুটি গড়তে পারিনি। আমি ও সালমান আলি আগা একটি জুটি গড়ার চেষ্টা করছিলাম। শুরুটা ভালো ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেটাকে বড় করতে পারিনি।'



তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর দিকেও ইঙ্গিত করেন। বাবরের মতে, দ্রুত উইকেট হারানোই বাংলাদেশকে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ এনে দেয়। নিজের আউটটিকে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, 'আমার এবং সালমান আলি আগার উইকেটই ছিল ইনিংসের টার্নিং পয়েন্ট। এই দুই উইকেট পড়ার পর ম্যাচের গতি পুরোপুরি বদলে যায়।'

নিজের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ নিয়ে বাবর বলেন, তিনি সবসময় স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে চান। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিক রান তুলতে হলে বড় জুটি অপরিহার্য। তার ভাষায়, 'আমি আমার স্বাভাবিক খেলাটা খেলার চেষ্টা করেছি। কখনও রান আসে, কখনও আসে না। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে বড় স্কোর গড়তে দুই-তিনটি শক্ত জুটি দরকার।'
 
৩১ বছর বয়সী এই ব্যাটার পাকিস্তানের ব্যাটিং ইউনিটের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তার মতে, একটি উইকেট পড়ার পর দ্রুত আরও কয়েকটি উইকেট হারানোই দলের বড় দুর্বলতা। বাবর বলেন, 'ব্যাটিং ইউনিটকে দায়িত্ব নিতে হবে এবং জুটি গড়তে হবে। একটি উইকেট পড়ার পর আরও দুই-তিনটি উইকেট পড়ে যায়, তখন ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে যায়। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি, নিজেদের মধ্যে এবং কোচদের সঙ্গে আলোচনা করছি, যাতে সমস্যাগুলো দূর করা যায়।'

শেষে মানসিক চাপ নিয়ে যেকোনো আলোচনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দল ইতিবাচক মানসিকতা নিয়েই এগোচ্ছে এবং উন্নতির জন্য নিয়মিত কাজ করছে, 'আমরা নিয়মিত ক্রিকেট খেলছি এবং কোনো মানসিক বাধা নেই। আমাদের লক্ষ্য সবসময় প্রতিটি সিরিজ, ম্যাচ এবং বিশ্বকাপে ভালো করা। সবাই ইতিবাচক থাকতে চায়, ভুল কমাতে চায়, ভিন্ন কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে চায় এবং উন্নতি করতে চায়। সাদা বল ও লাল বলের ক্রিকেটের জন্য তিন মাসের দীর্ঘ ক্যাম্প আমাদের জন্য উপকারী হবে।'

প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান ৫৭.৪ ওভারে ২৩২ রানে অলআউট হলে ৪৬ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে আবার ব্যাটিংয়ে নেমে দিনশেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৬.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ১১০ রান, ফলে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৬ রান।

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১৩ রানে অপরাজিত আছেন। দিনের শেষ বলে আউট হন ৩০ রান করা মুমিনুল হক। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ৬৪ বলে ৫২ রান করেন।
 
এর আগে পাকিস্তানের হয়ে প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন বাবর আজম। ৮৪ বলে ১০টি চারে খেলা ইনিংসটি শেষ হয় নাহিদ রানার বলে। এছাড়া শেষদিকে দ্রুত ৩৮ রান করেন সাজিদ খান, যেখানে ছিল দুটি চার ও চারটি ছক্কা।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও লিটন দাসের দারুণ ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ায়। তার ১২৬ রানের ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭৮ রানের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংগ্রহ গড়তে সক্ষম হয়।

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন