গঙ্গায় আমিষ বর্জ্য ফেলা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত: ভারতীয় হাইকোর্ট
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৫৩ পিএম | ১৮ মে, ২০২৬
পবিত্র গঙ্গা নদীতে আমিষ বা অ-নিরামিষ খাবারের বর্জ্য অংশ এবং উচ্ছিষ্ট ফেলা সনাতন ধর্মাবলম্বী তথা হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
বারাণসীতে গঙ্গা নদীর বুকে একটি নৌকায় ইফতার পার্টির আয়োজন করে নদীতে মাংসের উচ্ছিষ্ট ফেলার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজন মুসলিম যুবকের জামিন মঞ্জুর করে আদালত এই পর্যবেক্ষণ দেন।
শুক্রবার (১৫ মে) এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি রাজীব লোচন শুক্লার একক বেঞ্চ এই জামিন আদেশ জারি করেন। মামলার সমস্ত তথ্য-প্রমাণ, আসামিদের পূর্ববর্তী কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকা এবং তাদের দীর্ঘ বন্দিত্বের মেয়াদ বিবেচনা করে আদালত আসামিদের জামিনের সিদ্ধান্ত নেন।
জামিন আদেশের সময় বিচারপতি রাজীব লোচন শুক্লা তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, ‘আবেদনকারীরা তাদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত কাজের জন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত এবং ক্ষমা চেয়েছেন। এমনকি তাদের পরিবারও সমাজের কাছে এই ঘটনার ফলে সৃষ্ট কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।’
আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানান, একটি নৌকার ওপর মুসলিম সম্প্রদায়ের কয়েকজন সদস্য ইফতারের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে ইফতার করার সময় তারা আমিষ খাবার খেয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে সেই খাবারের অবশিষ্টাংশ গঙ্গা নদীতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। আদালতের নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিতে এই কাজটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করতে পারে বলে সাব্যস্ত করা যায়। তবে আসামিরা ভবিষ্যতে আর কখনো এমন কাজ না করার জন্য লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ পবিত্র রমজান মাসে বারাণসীর গঙ্গা নদীতে একটি চলন্ত নৌকায় ইফতারের পর মাংস খেয়ে তার হাড় ও বর্জ্য নদীতে ফেলার অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। বারাণসী জেলা বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি রজত জয়সওয়াল ১৬ মার্চ স্থানীয় থানায় এই বিষয়ে একটি প্রথম তথ্য বিবরণী বা এফআইআর দায়ের করেন।
তার অভিযোগ ছিল, এই ঘটনার মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের পবিত্রতম নদী গঙ্গাকে অপবিত্র করা হয়েছে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত লেগেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) উপাসনালয় অপবিত্রকরণ ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো বিভিন্ন কঠোর ধারায় মামলা রুজু করে গত ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই আদেশের মাধ্যমে জামিন পাওয়া পাঁচ আবেদনকারী হলেন—মোহাম্মদ আজাদ আলী, মোহাম্মদ তাহসিম, নিহাল আফ্রিদি, মোহাম্মদ তৌসিফ আহমেদ এবং মোহাম্মদ আনাস। এর আগে একই মামলায় গত ১৫ মে বিচারপতি জিতেন্দ্র কুমার সিনহার আরেকটি বেঞ্চ মোহাম্মদ সমীর, মোহাম্মদ আহমদ রেজা এবং মোহাম্মদ ফয়জান নামে আরও তিন অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করেছিলেন।
এর আগে গত ১ এপ্রিল বারাণসীর একটি দায়রা আদালত আসামিদের জামিন আবেদন এই বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাদের কর্মকাণ্ডের পেছনে সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তি বিনষ্ট করার একটি উদ্দেশ্য বা অভিপ্রায় দৃশ্যমান ছিল। তবে উচ্চ আদালত দীর্ঘ শুনানি ও আসামিদের নিঃশর্ত ক্ষমার বিষয়টি আমলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত সবার কারামুক্তির আদেশ দেন।
সূত্র: এনডিটিভি
টিজে/টিকে