যাদুকাটা নদীর উপর নির্মাণাধীন সেতুর ৫ গার্ডার ভেঙে নদীতে, তদন্তের দাবি
ছবি: সংগৃহীত
০৬:২০ এএম | ১৯ মে, ২০২৬
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে যাদুকাটা নদীর উপর নির্মাণাধীন শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতুর ৫টি গার্ডার ভেঙে নদীতে পড়ে গেছে।
রোববার (১৭ মে) দিবাগত রাতে বয়ে যাওয়া ঝড়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাহিরপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ ব্রিজের নীচ থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণেই গার্ডার ভেঙে নদীতে পড়েছে।
জানা যায়, সোমবার (১৮ মে) সকাল থেকে সেতুর কয়েকটি গার্ডার নদীর পানিতে তলিয়ে আছে। ২০১৮ সাল থেকে শুরু হওয়া নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলার পর নতুন এই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে সেতুটি। এতে এটি চালু হওয়া নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ১৭ তারিখে তাহিরপুর এমন কোনো বড় ঝড়ের তথ্য নেই, কোন গাছপালা ভাঙার খবর নেই, বাড়ি-ঘর সব ঠিক আছে শুধু ব্রিজের গার্ডার ভেঙে যাবে এটি অসম্ভব।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি তারা বলছেন রাতের বেলা সেতু এলাকায় ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন হয়। এ কারণে যদি এমন সমস্যা হয়ে থাকে তবে শঙ্কার জায়গা হলো ড্রেজার অব্যাহত বালু উত্তোলন করলে ব্রিজের পিলারও যেকোন সময় ধ্বসে যেতে পারে।পরিবেশ বিধ্বংসী ড্রেজার মেশিন বন্ধ করে আমাদের এই সেতু,যাদুকাটা নদীর তীর, শাহ আরফিনের মাজার, অদ্বৈত মন্দিরসহ জনপদ রক্ষা করতে হবে।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখি ৫টি গার্ডার পড়ে গেছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে জেনেছি রাতে ঝড় হয়েছিল। অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে ইতোমধ্যে রি-টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। তবে নতুন এই দুর্ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রায় ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে যাদুকাটা নদীর ওপর ৭৫০ মিটার দীর্ঘ শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। তমা কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি শুরু করলেও কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও নির্মাণকাজ সম্পন্ন না করেই প্রতিষ্ঠানটি সরে যায়।
এসকে/টিএ