© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চট্টগ্রামে দেয়ালজুড়ে নতুন করে আঁকা হলো জুলাই গ্রাফিতি

শেয়ার করুন:
চট্টগ্রামে দেয়ালজুড়ে নতুন করে আঁকা হলো জুলাই গ্রাফিতি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:৪১ এএম | ১৯ মে, ২০২৬
চট্টগ্রামের টাইগারপাস এলাকায় গ্রাফিতি আঁকাকে কেন্দ্র করে টানটান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও সোমবার সন্ধ্যায় দেয়ালজুড়ে ফিরে আসে রং ও প্রতিবাদের ভাষা। সিটি করপোরেশন, এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদের পৃথক উদ্যোগে নগরীর বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় গ্রাফিতি কর্মসূচি। এতে অংশ নেন তরুণ-তরুণী, শিল্পী ও বিভিন্ন বয়সী মানুষ।

সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান গেটসংলগ্ন দেয়ালে “জুলাই গ্রাফিতি” কর্মসূচি শুরু হয়। রং, তুলি ও স্প্রে ক্যান হাতে অংশগ্রহণকারীরা দেয়ালে ফুটিয়ে তোলেন প্রতিবাদ, স্মৃতি ও রাজনৈতিক বার্তা। কেউ আঁকেন প্রতিবাদের মুখ, কেউ লেখেন স্লোগান, আবার কেউ রঙের মাধ্যমে তুলে ধরেন আন্দোলনের স্মৃতি।

এর কিছুক্ষণ পর, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে টাইগারপাস মোড়ে এনসিপির ব্যানারে আরেকটি গ্রাফিতি কর্মসূচি শুরু হয়। এর আগে একই এলাকায় গ্রাফিতি আঁকা শুরু করে গণঅধিকার পরিষদ। আলাদা স্থান ও ভিন্ন আয়োজনে হলেও দেয়ালজুড়ে উঠে আসে একই ধরনের বার্তা-স্মরণ, প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক অভিব্যক্তি।

তবে দিনের শুরুতে পরিস্থিতি ছিল উত্তপ্ত। দুপুরে টাইগারপাস মোড়ে ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলা মানে ইতিহাস ও স্মৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা। তাদের দাবি, কোনো রাজনৈতিক নির্দেশনায় নয়, বরং বিবেকের তাড়নায় তারা দেয়ালে ফিরে এসেছেন।

এর আগে রোববার বিকেল থেকেই শহরের দেয়াল ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। জুলাই আন্দোলন-সম্পর্কিত গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এনসিপি নেতাকর্মীদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান সৃষ্টি হয়। গভীর রাত পর্যন্ত নগরীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল টানটান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন লালখান বাজার থেকে টাইগারপাস পর্যন্ত এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে এবং সকাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে রাজনৈতিক দলগুলো আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কর্মসূচি স্থগিত করে।

তবে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও বিকেলের পর থেকে আবার দেয়ালে ফিরতে থাকে রং। সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাফিতি কার্যক্রম শুরু হলে টাইগারপাস এলাকায় তৈরি হয় ভিন্ন এক আবহ। সেখানে প্রশাসনিক অবস্থান, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত সাংস্কৃতিক প্রকাশ একসঙ্গে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

এসকে/টিএ

মন্তব্য করুন