থালাপতি বিজয়কে নিয়ে কী বললেন রজনীকান্ত?
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৫১ পিএম | ১৯ মে, ২০২৬
তামিল রাজনীতির ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়। চলতি মাসের শুরুতেই তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই দক্ষিণী চলচ্চিত্র অঙ্গনে যেন উৎসবের আবহ। অভিনয়ের জগৎ থেকে উঠে এসে রাজনীতির ময়দানে এমন অভাবনীয় সাফল্য পাওয়ার পর সহকর্মী তারকাদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন তিনি। কমল হাসান, রামচরণ, বিজয় দেবেরাকোন্ডা থেকে আল্লু অর্জুন- অনেকেই প্রকাশ্যে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে।
তবে এই আবহের মধ্যেই নতুন বিতর্কের জন্ম দেয় রজনীকান্তকে ঘিরে একটি ঘটনা। শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিকরা যখন তার কাছে ‘মুখ্যমন্ত্রী বিজয়’ সম্পর্কে জানতে চান, তখন কোনও মন্তব্য না করে করজোড়ে সেখান থেকে সরে যান তিনি। মুহূর্তেই সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। আর তারপর থেকেই শুরু হয় জল্পনা। অনেকে প্রশ্ন তুলতে থাকেন, রাজনৈতিক জীবনে নিজে সফল হতে না পারার আক্ষেপ থেকেই কি বিজয়কে এড়িয়ে যাচ্ছেন রজনীকান্ত?
এর আগেও বিজয়ের রাজনৈতিক প্রচারের সময় রজনীকান্তের একটি মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন, সময় নিজে কথা বলে না, তবে ঠিক সময়ে উত্তর দেয়। সেই বক্তব্যকেও অনেকে কটাক্ষ হিসেবে দেখেছিলেন। ফলে বিজয়ের ঐতিহাসিক জয়ের পর রজনীকান্তের নীরবতা আরও বেশি করে আলোচনায় আসে।

অবশেষে বিতর্কের মুখে মুখ খুললেন রজনীকান্ত। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিজয়ের প্রতি তার কোনও হিংসা নেই। বরং অনুজ অভিনেতার রাজনৈতিক উত্থান তাকে বিস্মিত ও আনন্দিত করেছে। তার ভাষায়, এত অল্প বয়সে এমজিআর বা এনটিআরের মতো কিংবদন্তিদের চেয়েও বড় সাফল্য অর্জন করেছেন বিজয়। শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে যে জয় তিনি পেয়েছেন, সেটাকে তিনি সম্মানের চোখেই দেখছেন।
একইসঙ্গে নিজের রাজনৈতিক অধ্যায় নিয়েও কথা বলেন রজনীকান্ত। তিনি জানান, অতীতে রাজনীতিতে আসার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে মাঠে নামেননি। তবে সুযোগ পেলে তিনিও জয় পেতে পারতেন বলেই বিশ্বাস তার। এই বক্তব্য সামনে আসতেই ফের নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে দক্ষিণী রাজনীতির অন্দরে।
দক্ষিণী চলচ্চিত্রের বহু তারকা অতীতে রাজনীতিতে এলেও সবাই সফল হননি। কেউ দল গড়েও প্রভাব ফেলতে পারেননি, কেউ আবার মাঝপথেই থেমে গিয়েছেন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে থলপতি বিজয়ের এই উত্থানকে অনেকেই ঐতিহাসিক ঘটনা বলেই মনে করছেন। নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠনের পর থেকেই তিনি যে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত বাস্তবেও তার প্রতিফলন ঘটেছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
এসএ/টিএ