দুর্নীতির মামলায় ৮৮ বার আদালতে হাজির হয়েছেন নেতানিয়াহু
ছবি: সংগৃহীত
০৬:০৫ পিএম | ১৯ মে, ২০২৬
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মঙ্গলবার (১৯ মে) তেলআবিবের আদালতে দুর্নীতির মামলায় হাজির হয়েছেন। এটি চলমান বিচার প্রক্রিয়ায় তার ৮৮তম আদালতে উপস্থিতি বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদুলু এজেন্সি জানিয়েছে, তার 'নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সূচি' বিবেচনায় নিয়ে বিচারকরা মঙ্গলবারের শুনানির সময় সংক্ষিপ্ত করার অনুমতি দেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এই দিনের শুনানিতে মূলত কেস ২০০০ নিয়ে আলোচনা হয়। কেস ১০০০ ও কেস ৪০০০-এ জিজ্ঞাসাবাদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তিনটি আলাদা মামলায়—কেস ১০০০, ২০০০ ও ৪০০০—ঘুষ, দুর্নীতি এবং বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাগুলোর আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র, ২০১৯ সালের নভেম্বরের, শেষ দিকে দাখিল করা হয়।
কেস ১০০০-এ অভিযোগ করা হয়েছে, ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেতানিয়াহু ও তার পরিবারের সদস্যরা দামী উপহার নিয়েছিলেন, বিনিময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুবিধা ও সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
কেস ২০০০-এ অভিযোগ, তিনি দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথ-এর প্রকাশক আরনন মোজেসের সঙ্গে 'বায়াস' সংবাদ কাভারেজের বিনিময়ে চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন।
কেস ৪০০০-এ অভিযোগ, টেলিকম কোম্পানি বেজেকের সাবেক মালিক শাউল এলোভিচকে সুবিধা দেওয়া হয়, যার বিনিময়ে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ওয়ালাতে নেতানিয়াহুকে নিয়ে ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল।
২০২০ সালে বিচার শুরু হওয়ার পর থেকে নেতানিয়াহু সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং এটিকে তার বিরুদ্ধে 'রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা' বলে দাবি করছেন।
ইসরায়েলি আইনে, অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ স্বীকার না করলে প্রেসিডেন্টের পক্ষেও ক্ষমা দেওয়া সম্ভব নয়।
এদিকে, অভ্যন্তরীণ এই দুর্নীতির মামলার পাশাপাশি,ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে, ২০২৪ সাল থেকে, গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতানি পরোয়ানা জারি রেখেছে। বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে নেতানিয়াহুর আদেশে দুই বছরের যুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
টিজে/টিএ