কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কি ডিমের কুসুম বাদ দিতে হবে?
ছবি: সংগৃহীত
১১:৩৬ এএম | ২০ মে, ২০২৬
শরীরের সুস্থতা নিয়ে আমরা নানাভাবে সচেতন থাকার চেষ্টা করি। কোন খাবারটি ক্ষতিকর, কোন খাবারটি উপকারী, সে সম্পর্কে কম-বেশি সবারই আমাদের ধারণা রয়েছে। কিছু খাবার আছে এমন, যেগুলো উপকারী হলেও সবাই খেতে পারবে কি না তা নিয়ে নানা মত থাকে। যেমন ধরুন ডিম। সবচেয়ে উপকারী খাবারের তালিকা করলে ডিম উপরের দিকেই থাকবে। কিন্তু যারা কোলেস্টেরলের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই উপকারী খাবারই বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। ডিম না আসলে, এক্ষেত্রে ডিমের কুসুম নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত থাকে মানুষ। ডিমের কুসুমকে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ানোর জন্য দায়ী করা হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আপনার উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে কি সত্যিই কুসুম এড়িয়ে চলতে হবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক-
একটি ডিমের কুসুমে কতটা কোলেস্টেরল থাকে?
ডিমের কুসুমে স্বাভাবিকভাবেই উচ্চ মাত্রায় খাদ্যতালিকাগত কোলেস্টেরল থাকে। পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, একটি ডিমের কুসুমে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন ৩০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত কোলেস্টেরল গ্রহণ করতে পারেন। যে কারণে অনেকে মনে করেন যে ডিমের কুসুম খেলে তা দ্রুত নিরাপদ সীমা অতিক্রম করতে পারে।
ডিমের কুসুম খেলে কি রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ে?
পুষ্টিবিদদের মতে, ডিমে খাবারে থাকা ডায়েটারি কোলেস্টেরল বেশিরভাগ মানুষের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা অপরিহার্যভাবে বাড়িয়ে দেয় না। গবেষণায় স্পষ্টভাবে দেখা গেছে যে, ডায়েটারি কোলেস্টেরল নয়, বরং স্যাচুরেটেড ফ্যাটই শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সহজ কথায়, ডিমের মতো কোলেস্টেরলের প্রাকৃতিক উৎস গ্রহণের চেয়ে স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়া বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। এর মানে হলো, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে শুধুমাত্র ডিমের কুসুম এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে কার্যকর উপায় না-ও হতে পারে।

প্রয়োজনীয় পুষ্টি
ডিমকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কোলেস্টেরলের উৎস হিসেবে ভুল বোঝা হয়, কিন্তু এটি আসলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। পুষ্টিবিদদের মতে, ডিম হলো ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের এক পাওয়ারহাউস। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি ভিটামিন, বি২, ফোলেট এবং সেলেনিয়াম। এই পুষ্টি উপাদানগুলো সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডিমের কুসুম পুরোপুরি বাদ দিলে আমাদের শরীর প্রতিদিনের অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
প্রতিদিন কয়টি ডিম খেতে পারবেন?
প্রতিদিন আপনি কতগুলো ডিম খাচ্ছেন, তার ওপরও নির্ভর করে অনেককিছু। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন ৪টি ডিমের সাদা অংশ এবং ২টি ডিমের কুসুম খেতে পারবেন। আর যাদের কোলেস্টেরল বেশি, তারা প্রতিদিন ৪টি ডিমের সাদা অংশ এবং ১টি ডিমের কুসুম খেতে পারবেন।
ডিমের কুসুম পুরোপুরি এড়িয়ে চলা উচিত?
এর সহজ উত্তর হলো- না। বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে, এমনকী যারা কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখছেন তাদের জন্যও ডিমের কুসুম পুরোপুরি এড়িয়ে চলার প্রয়োজন নেই। আমাদের খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া কমাতে হবে। সেইসঙ্গে বিভিন্ন শরীরচর্চা চালিয়ে যেতে হবে। সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে প্রতিদিন ডিম খেতে হবে।
এসএ/এসএন