অন্তর্বর্তী সরকারের সব উপদেষ্টার বিচারের দাবি বাম ঐক্যের
ছবি: সংগৃহীত
১০:৩৬ পিএম | ২০ মে, ২০২৬
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কড়া সমালোচনা করে গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সভাপতি হারুন চৌধুরী বলেছেন,‘ ড. ইউনূস ও তার সহযোগীদের যদি দেশের প্রচলিত আদালতে বিচার করা না হয়, তবে এই প্রেস ক্লাবের সামনে জনতার আদালতে বিচার হবে। যত দিন বিচার না হবে, তত দিন তাদের বিদেশ যেতে দেওয়া যাবে না।’
শিশু হত্যা ও দেশের সাম্প্রতিক নৈরাজ্যের জন্য তার সব উপদেষ্টাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন হারুন চৌধুরী।
বাম ঐক্যের সভাপতি বলেন, ‘শোনা যাচ্ছে একেকজন মন্ত্রীর ২০-২১ কোটি টাকা রয়েছে, ৭ কোটির নিচে কারো খতিয়ান নেই। অথচ আমরা গরিব মানুষের দল করি, দিন এনে দিন খাই। মানুষের কাছ থেকে হাত পেতে টাকা এনে আজ ব্যানার-মাইকের খরচ জোগাতে হয়েছে।’
তিনি বলেন, রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মাধ্যমে পটপরিবর্তন হলেও রাজপথের ত্যাগী ও প্রগতিশীল শক্তির অবমূল্যায়ন করে সরকার চালানো হচ্ছে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখা প্রগতিশীল বাম শিবিরের নেতাদের দূরে ঠেলে দিয়ে এখন সুবিধাবাদীদের পাশে রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিচারের দাবি জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হারুন চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, আপনার লজ্জা হওয়া উচিত যে উপদেষ্টারা নির্বাচন করে দিয়ে গেলেন, তারা নিজেরাই এখন হেঁটে হেঁটে বলছেন- নির্বাচন সঠিক হয়নি, দুই নম্বরি হয়েছে। এই দুই নম্বরি নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হতে আপনার খারাপ লাগে না? আমরা ন্যায্য ভোট দিয়েছি, আমাদের ভোট কেন বিতর্কিত হলো?’
বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে হারুন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ভেবেছি আপনি (তারেক রহমান) ১৭ বছর বিদেশে ছিলেন, কারাবরণ করেছেন, আপনার কোমরের হাড্ডি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। আপনার ছোট ভাই মারা গেলে জানাজায় অংশ নিতে পারেননি। আমাদের সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট যদি হাসিনা পলায়ন না করত, তবে হয়তো আপনি মায়ের লাশও দেখতে পারতেন না। আমরা তখন থেকেই আপনার জন্য লড়াই করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আপনি বেমালুম ভুলে গেছেন যে কেবল নির্দিষ্ট দু-একটি দল আন্দোলন করেনি। রাজপথে আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, সাইফুল হকের মতো প্রগতিশীল আন্দোলনের নক্ষত্ররা ছিলেন, আমরা বামেরাও ছিলাম। কিন্তু আপনি সরকার গঠনের সময় আপনার পাশে চারপাশের ২০০ লোককে রেখেছেন। ডাক্তার জাহিদ, তুষারদের এনে পাশে বসিয়েছেন। তারা এখন বড় বুদ্ধিদাতা, আর আমরা যারা রাজপথে রক্ত দিলাম, তারা আজ অবহেলিত কাগজের মতো পড়ে আছি।’
এসকে/টিএ