© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মোদির ইউরোপ সফর ঘিরে কেন এত আলোচনা-সমালোচনা

শেয়ার করুন:
মোদির ইউরোপ সফর ঘিরে কেন এত আলোচনা-সমালোচনা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:০৩ এএম | ২১ মে, ২০২৬
ইউরোপ সফরে নরেন্দ্র মোদির ঝুলিতে ১৭টি চুক্তি এলেও পিছু ছাড়েনি ভারতের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্ন। নেদারল্যান্ডস ও নরওয়েতে বাণিজ্যিক সম্পর্কের আড়ালে বারবার সামনে এসেছে সংখ্যালঘু নিরাপত্তার বিষয়টি। তবে প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে সমালোচকদের ‘অজ্ঞ’ বলে দায় এড়াতে চেয়েছে দিল্লি।

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ এবং ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চায় ইউরোপের অনেক দেশই। তারই ধারাবাহিকতায় মোদির ইউরোপ সফরে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা খাতসহ মোট ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই হয়।
 
তবে বাণিজ্যিক এই সাফল্য ছাপিয়ে সফরের শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে ভারতের সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো।
 
নেদারল্যান্ডসের স্থানীয় গণমাধ্যমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী মুসলিম সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ভাঙচুরের চিত্র গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হয়। এমনকি বৈঠকের আগেই ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
 
পরবর্তীতে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে জানায়, সমালোচকরা ভারত সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা রাখে না।
 
 
নরওয়ে সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেই সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ দেননি। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলাদা সংবাদ সম্মেলনে ভারতের ৫ হাজার বছরের ইতিহাস এবং করোনাকালের মানবিক সাহায্যের কথা উল্লেখ করে সমালোচকদের ‘অজ্ঞ ও এনজিও দ্বারা প্রভাবিত’ বলে আখ্যা দেয়।
 
মূল প্রশ্নের সরাসরি কোনো জবাব না পেয়ে ক্ষোভে ও অপমানে এক ইউরোপীয় সাংবাদিক মাঝ-পথেই প্রেস কনফারেন্স ছেড়ে বেরিয়েও যান।
 
ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে বাণিজ্য ও মানবাধিকার বিষয় দুটি হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ডাচ প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগ কিংবা বৈশ্বিক সূচকে ভারতের পিছিয়ে পড়াকে কেবল অজ্ঞতা বা প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল দিয়ে ঢেকে রাখা সম্ভব নয়। তাই বাণিজ্যিকভাবে সফল হলেও এই সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভাবমূর্তির সংকটকে আরও একবার স্পষ্ট করে তুলেছে।
 
এ অবস্থায় বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক পরাশক্তি হয়ে ওঠার লড়াইয়ে কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়, নিশ্চিত করতে হবে অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতাও।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন