শিশু নির্যাতন ও মব কালচারের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি সমাজকল্যাণমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত
০৩:২১ এএম | ২৩ মে, ২০২৬
শিশু ও নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি এবং মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে দেশে কোনো ধরনের ‘মব কালচার’ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা পরিষদের হলরুমে স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। উপজেলা বিএনপি এই সভার আয়োজন করে।
শিশু রামিসা হত্যার ঘটনার উল্লেখ করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, 'যারা শিশুদের ধর্ষণ বা নির্যাতন করে, বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়েই তাদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান নির্ধারণ করা আছে। এর চেয়ে বড় আর কী শাস্তি হতে পারে, তা আমাদের ভেবে দেখতে হবে।'
বর্তমান সরকারের সদিচ্ছার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঘটনা ঘটার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই জঘন্য অপরাধের সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, 'আজকে যারা বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা নিয়ে রাজনীতির মাঠে পানি ঘোলা করার চেষ্টা করছেন, মানুষকে উত্তেজিত করে ‘মব কালচার’-এর দিকে ধাবিত করছেন, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। কোনো অবস্থাতেই কেউ যদি মনে করেন ধাক্কা দিলেই এই সরকার চলে যাবে বা পালিয়ে যাবে, তবে তারা ভুল ভাবছেন। এই সরকার জনগণের ভালোবাসা ও স্নেহ নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে এবং সবসময় জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।'
হিলির স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, হিলি স্থলবন্দরের আধুনিকায়ন, রাস্তাঘাটের সংস্কার এবং ঢাকাগামী ও আন্তঃনগর ট্রেন থামানোর বিষয়ে দ্রুতই কার্যকর পদক্ষেপ ও উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হবে।
মতবিনিময় সভা শেষে মন্ত্রী উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির ও গির্জার প্রতিনিধিদের হাতে সরকারি আর্থিক অনুদানের চেক ও কাগজপত্র তুলে দেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাকিমপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ ন ম নিয়ামত উল্লাহ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এমআর/টিকে