© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সাভারে তিন সাংবাদিকের ওপর মাদক কারবারিদের হামলা

শেয়ার করুন:
সাভারে তিন সাংবাদিকের ওপর মাদক কারবারিদের হামলা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৩৪ এএম | ২৩ মে, ২০২৬
সাভারে মাদক কারবারের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে শীর্ষ মাদক কারবারি শামীম বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছেন দেশ টিভির সাংবাদিক তাইফুর রহমান তুহিন, ক্যামেরাপারসন মনিরুল হক কাইয়ুম ও এসএ টিভির সাভার প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন। এ ছাড়া বগুড়ায় দুর্বৃত্তরা সাংবাদিক শাফায়াত সজলকে ছুরিকাঘাত করেছে।

গতকাল শুক্রবার এসব হামলার ঘটনা ঘটে। সাংবাদিকদের ওপর এসব হামলার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতাসহ পেশাদার সাংবাদিকরা। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সাভারের রাজাশন আইচানোয়াদ্দা এলাকায় মাদক কারবার ও কারবারিদের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সেখানকার শীর্ষ মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী শামীম বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছেন দেশ টিভির সাংবাদিক তাইফুর রহমান তুহিন, ক্যামেরাপারসন মনিরুল হক কাইয়ুম এবং এসএ টিভির সাভার প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন।

সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাঁদের তুলে নিয়ে আমতলা এলাকার একটি অটোরিকশার গ্যারেজে আটকে মারধর করে। ওই সময় তারা সাংবাদিকদের ব্যবহৃত গাড়ি ও ক্যামেরা ভাঙচুর করে মেমোরি কার্ড ছিনিয়ে নেয়। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সাভার পৌরসভার রাজাশন আমতলা এলাকায় এ হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে।

পরে হামলার খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহায়তায় সাভার মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।
ওই সময় ঘটনাস্থল থেকে কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

স্থানীয়রা দাবি করে, হামলার সময় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাভার উপজেলা নেতা তৌকির ও একই সংগঠনের সাভার মডেল কলেজের সাবেক নেতা জুবায়ের গ্রুপের কিশোর গ্যাং বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিল। জানা গেছে, মাদক কারবারি শামীমের হাত অনেক লম্বা। তার মাদকের নেটওয়ার্ক অনেক বিস্তৃত। সে এলাকার উঠতি বয়সী ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের দিয়ে মাদক ব্যবসা করছে।

এ ছাড়া তার সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কিছু সদস্যের সখ্য রয়েছে। এ কারণে তাকে সহজে গ্রেপ্তার করা হয় না। তবে প্রশাসন চাপে পড়ে গ্রেপ্তারে বাধ্য হলে আবারও জামিনে বেরিয়ে মাদক কারবার শুরু করে শামীম।

ভুক্তভোগী দেশ টিভির সাংবাদিক তাইফুর রহমান তুহিন বলেন, ‘আমরা ওই এলাকায় গিয়ে মাদকের সংবাদ সংগ্রহ করে অনেকের সঙ্গে কথা বলে মূল সড়কে চলে আসি। সেখান থেকে শীর্ষ মাদক কারবারি শামীমের আস্তানার ছবি নিয়ে গাড়িতে ওঠার পর একজন এসে কথা বলতে চায়। এ সময় গাড়ির দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ জন অস্ত্রধারী আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং গাড়ি ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে তারা আমাদের তুলে নিয়ে শামীমের রিকশার গ্যারেজে আটকে মারধর করে এবং সঙ্গে থাকা ক্যামেরা, মোবাইলসহ সবকিছু ছিনিয়ে নেয়।

আমরা তাদের কাছে অনুরোধ করি আমাদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য। শামীম বলে—আমি পুলিশকে ফোন দিচ্ছি, তোরা মুচলেকা দিয়ে এখান থেকে যেতে পারবি। তারা আমাকে দেশি অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে, ক্যামেরাম্যান এবং স্থানীয় সাংবাদিককেও মারধর করে।’ সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী বলেন, ‘মাদক কারবারিদের হামলার শিকার সাংবাদিকদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরসহ হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে।’ প্রসঙ্গত, গত ১০ মে রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভার পৌর এলাকার রাজাশন মহল্লায় শীর্ষ মাদক কারবারি শামীম হোসেনের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, ২১ রাউন্ড গুলিসহ সুমন, জাহিদ ও সবুজকে আটক করেছিল র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৪ (র‌্যাব-৪)। তবে অভিযানের সময় কৌশলে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত মাদক কারবারি শামীম হোসেন। র‌্যাবের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শামীম এলাকায় মাদক কারবার করছে।

পাশাপাশি তার আস্তানায় অবৈধ অস্ত্র মজুদের তথ্যও ছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ বিষয়ে র‌্যাব-৪-এর নবীনগর সিপিসি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার শাহীনুর কবির বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। এ সময় অস্ত্র, গুলিসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত শামীম হোসেন পালিয়ে গেলেও তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

বগুড়ায় সাংবাদিক শাফায়াতকে ছুরিকাঘাত : বগুড়ায় সাংবাদিক শাফায়াত সজলকে ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বগুড়া সদরের পল্লী মঙ্গলহাট এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত শাফায়াত সজল দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার শিবগঞ্জ প্রতিনিধি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে পল্লী মঙ্গলহাট এলাকায় অবস্থানকালে একদল দুর্বৃত্ত তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা সজলের কপালে ছুরিকাঘাত করে। ঘটনার পর আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হামলার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী বলেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইকে/টিএ

মন্তব্য করুন