© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হ্যারি কেইনের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ৬ বছর পর ডিএফবি-পোকাল জিতল বায়ার্ন

শেয়ার করুন:
হ্যারি কেইনের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ৬ বছর পর ডিএফবি-পোকাল জিতল বায়ার্ন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:৩৫ এএম | ২৪ মে, ২০২৬
আরও একবার জাত চেনালেন হ্যারি কেন। ডিএফবি পোকালের ফাইনালে স্টুটগার্টের বিপক্ষে এই ইংলিশ ফরোয়ার্ডের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে জয় পেয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। ওলিম্পিয়াস্টাডিয়নে এই জয়ের ফলে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল মৌসুম শেষ করল একটি ঘরোয়া ডাবল ট্রফি জয়ের মাধ্যমে, যা জার্মান ফুটবলে ব্যাভেরিয়ান জায়ান্টদের একক আধিপত্যের আরও একটি দৃষ্টান্ত। ফাইনালে দীর্ঘ সময় ধরে টানটান উত্তেজনা থাকলেও ইংল্যান্ড অধিনায়কের নিখুঁত ফিনিশিংই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। এই জয়ে বায়ার্ন তাদের ২১তম কাপ শিরোপা নিশ্চিত করল।

শনিবার (২৩ মে) ডিএফবি পোকাল ফাইনালে হ্যারি কেনের হ্যাটট্রিকে স্টুটগার্টকে ৩-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ।

বুন্দেসলিগায় আধিপত্যে ভরা এক মৌসুমে বায়ার্ন ৬ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ডিএফবি-পোকাল ট্রফির স্বাদ পেল। অধিনায়ক ম্যানুয়েল নয়ার পায়ের চোটের কারণে অনুপস্থিত থাকলেও জার্মান চ্যাম্পিয়নদের জয় পেতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। এই জয়ে নিজেদের ইতিহাসে ১৪তমবারের মতো ঘরোয়া ডাবল সম্পন্ন করল ব্যাভেরিয়ান জায়ান্টরা।

ম্যাচের পুরো আলো কেড়ে নিয়েছেন হ্যারি কেন। ইংল্যান্ড অধিনায়ক দ্বিতীয়ার্ধে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন, এরপর শেষ দিকে আরও দুই গোল করে ম্যাচের ফল নিশ্চিত করেন। ম্যাচ শেষে জশুয়া কিমিখ এএআরডিকে বলেন, 'আমারা আনন্দিত ছিলাম অবশেষে বার্লিনে ফিরে আসতে পেরে। আমরা যে কোনো মূল্যে এখানে জিততে চেয়েছিলাম।'

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন স্টুটগার্ট সহজে হার মানেনি এবং শুরুতে দারুণ চাপ তৈরি করে। এই ম্যাচ দেখতে গ্যালারিতে হাইপ্রোফাইল অতিথিদের মধ্যে ছিলেন জুলিয়ান নাগেলসম্যান এবং জোসে মরিনিয়ো। ম্যাক্সিমিলিয়ান মিটেলস্টাড্ট এবং স্টুটগার্টের আক্রমণভাগ বারবার বায়ার্নের বদলি গোলরক্ষক জোনাস উরবিগকে পরীক্ষা নিয়েছে। প্রথমার্ধে বায়ার্নকে ছন্দ খুঁজে পেতে বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে।

অবশেষে ৫৫তম মিনিটে গোলের সূচনা হয়। গ্যালারিতে আতশবাজির ধোঁয়ার মধ্যে মাইকেল ওলিসে নিখুঁত ক্রস বাড়ান, আর কেন কাছ থেকে হেডে গোল করেন। এটি ছিল তার অসাধারণ মৌসুমের ৫৯তম গোল।



স্টুটগার্টের স্ট্রাইকার দেনিজ উনদাভ বলেন, 'আমরা বায়ার্নের জন্য ম্যাচটা কঠিন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু হ্যারি কেনকে চোখের আড়াল করা যায় না। তবুও আমরা নিজেদের নিয়ে গর্ব করতে পারি। বায়ার্নের কাছে হার মানার চেয়ে খারাপ কিছু নেই।'

কেনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় গোল আসে ৮০ ও ৯২তম মিনিটে, যার মধ্যে শেষ গোলটি ছিল পেনাল্টি থেকে। এতে চলতি মৌসুমের মোট গোল দাঁড়াল ৬১-তে। এই ৩-০ গোলের জয়ে বায়ার্ন এক মৌসুমে নিজেদের সর্বোচ্চ ৪৬ জয়ের রেকর্ড স্পর্শ করল, যা ের আগে আগে শুধুমাত্র ২০১২-১৩ সালের ট্রেবলজয়ী মৌসুমে হয়েছিল। এটি ছিল কাপে সাম্প্রতিক বছরগুলোর ব্যর্থতার থেকে দারুণ এক প্রত্যাবর্তন।

সাইডলাইনে থাকলেও ম্যানুয়েল নয়ারের জন্যও এটি ছিল বিশেষ মুহূর্ত। এই শিরোপা জয়ের মাধ্যমে ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক তার সপ্তম ডিএফবি-পোকাল শিরোপা জিতলেন, যা তাকে বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগারের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ শিরোপাজয়ী বানিয়েছে। তিনি ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে সতীর্থদের সঙ্গে সমর্থকদের সামনে যোগ দেন।

ডিএফবি-পোকাল ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা মাত্র চতুর্থ খেলোয়াড় হয়ে হ্যারি কেন জার্মান ফুটবলের ইতিহাসে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করলেন, ।

তিনি উয়ে সেলার, রোলান্ড উলফার্ট এবং রবার্ট লেভানডভস্কির মতো কিংবদন্তিদের তালিকায় নাম লেখালেন।

এছাড়া তিনি ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে একটি কাপ মৌসুমের ফাইনালসহ প্রতিটি রাউন্ডে গোল করলেন। তিনি এই বিরল কৃতিত্বে ডিটার মুলার (১৯৭৬-৭৭) এবং ডির্ক কুর্টেনবাখের (১৯৮৬-৮৭) পাশে জায়গা করে নিলেন। পুরো টুর্নামেন্টে তার গোলসংখ্যা ৯, যা কেবল বায়ার্নের কিংবদন্তি গার্ড মুলারের চেয়ে কম। মুলার এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ১০ ও ১১ গোল করেছিলেন।

এমআর/টিএ  

মন্তব্য করুন