শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে বিশেষ বেঞ্চ প্রয়োজন
ছবি: সংগৃহীত
০৩:১১ পিএম | ২৪ মে, ২০২৬
শিশু রামিসার মতো চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারকাজ দ্রুত শেষ করতে হাইকোর্ট বিভাগে বিশেষ বেঞ্চ গঠন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, শিশু রামিসার সঙ্গে ঘটে যাওয়া নৃশংস, নির্লজ্জ, ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য আজ গোটা জাতি অসম্মানিত। আইনজীবী হিসেবে আমাদের হৃদয়েও রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা হলো, এ ধরনের মামলার বিচারকাজ বছরের পর বছর পার হলেও শেষ হয় না। তাই দ্রুত বিচারের নিশ্চয়তা দিতে হবে। দ্রুত বিচার কোনো বেআইনি নয়। বরং দীর্ঘসূত্রতাকে খারাপ মনে করেন মানুষ।
চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারকাজ দ্রুত শেষ করতে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের মামলার বিশাল জট কমাতে উচ্চ আদালতে অবিলম্বে বিচারক নিয়োগ, মিথ্যা মামলা বন্ধ এবং হয়রানির শিকার নির্দোষ ব্যক্তিদের জন্য ‘ক্ষতিপূরণ বোর্ড’ গঠন করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে দ্রুত বিচার নিশ্চিতে পুলিশি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে হবে।
নিম্ন আদালতে সাজা হওয়ার পর উচ্চ আদালতে আপিল শুনানির দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, কারও কোনো সাজা হলে আপিল বিভাগে আসার পর সেই শুনানি হতে কত বছর লাগবে, কেউ জানেন না। এজন্য সরকারের আশ্বাসেও মানুষ এখন আর বিশ্বাস করছে না। তাই নারী ও শিশু নির্যাতনসহ স্পর্শকাতর ঘটনাগুলো নিয়ে বিশেষ বেঞ্চ তৈরি করতে হবে। তাহলেই তাড়াতাড়ি আপিল নিষ্পত্তি হবে।
উচ্চ আদালতে বিচারক সংকটের কথা তুলে ধরে মাহবুব উদ্দিন বলেন, বিচারকের স্বল্পতার কারণে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ অনেকটা স্থবির হয়ে গেছে। আগে আপিল বিভাগে তিনটি বেঞ্চ থাকলেও এখন মাত্র একটি বেঞ্চ দিয়ে কাজ চলছে। হাইকোর্টে কারও জামিন হলে এবং চেম্বার জজ তা স্থগিত করলে সাত-আট বছর ধরে সেটার আর শুনানি হচ্ছে না। এ কারণে মানুষের বিচার পেতে দেরি হলে তা দুর্নীতির জন্ম দেয়। তাই কমপক্ষে দুটি বা তিনটি বেঞ্চ যেন করা যায়, সেজন্য আপিল বিভাগকে দ্রুত বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে।
এবি/টিএ