© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ঢাকায় দায়িত্ব শেষে প্রণয় ভার্মার বিদায়ী বার্তা, ‘আবার দেখা হবে’

শেয়ার করুন:
ঢাকায় দায়িত্ব শেষে প্রণয় ভার্মার বিদায়ী বার্তা, ‘আবার দেখা হবে’

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:০১ পিএম | ২৪ মে, ২০২৬
বাংলাদেশে প্রায় চার বছরের দায়িত্ব পালন শেষে বিদায় জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। নতুন দায়িত্বে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে বাংলাদেশ ও এদেশের মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা, স্মৃতির কথা তুলে ধরে এক আবেগঘন বিদায়ী বার্তায় তিনি আবার দেখা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিদায়ী বার্তায় প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘বাংলাদেশ ছেড়ে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পরবর্তী দায়িত্বে যোগদানের প্রাক্কালে আমার মনে অনেকগুলো ভাবনার সমাগম ঘটেছে। আমরা প্রায় চার বছর ধরে ঢাকায় অবস্থান করেছি—যা প্রচলিত তিন বছর মেয়াদকালের চেয়ে দীর্ঘ। এই সময়কালে আমরা একাধিক পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছি, যার প্রত্যেকটি একে অপরের থেকে পৃথক। প্রতিটিরই রয়েছে নতুন একদল করে অংশীজন, যাদের ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে রয়েছে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি।’

তার মতে, ‘দায়িত্ব পালন কখনো কখনো ছিল বন্ধুর। কিন্তু পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, এটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও ফলপ্রসূ একটি অভিজ্ঞতাও ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমি ও আমার স্ত্রী মনু এখান থেকে অনেক অবিস্মরণীয় স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে যাব। অনেক মানুষ অসাধারণভাবে আমাদের জীবনকে স্পর্শ করেছেন, গড়ে তুলেছেন এমন বন্ধুত্বের বন্ধন, যা কূটনীতিবিদ হিসেবে এই দেশের সঙ্গে সংযোগের পরিসর অতিক্রম করে অনেক বেশি স্থায়ী হবে।’

বাংলাদেশে কাজ করতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেছেন দুই দেশের সম্পর্ক কতটা বিশেষ ও অনন্য। এ বিষয়ে বিদায়ী বার্তায় হাইকমিশনার বলেন, ‘এক স্তরে, আমরা অভিন্ন ভূগোল, ইতিহাস, ভাষা ও ঐতিহ্যের মাধ্যমে সংযুক্ত। অন্য দিকে, আমাদের মধ্যে এমন এক সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতা ও সহমর্মিতা রয়েছে, যা অন্য যেকোনো দুটি সমাজের মধ্যে বিরল। আরও গভীর পর্যায়ে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সম্মিলিত আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা আবেগের বন্ধনে আবদ্ধ।’

এ সম্পর্ক তাৎপর্যপূর্ণ পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও আন্তঃসংযোগের। একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ যেমন ভারতের জন্য কাম্য, তেমনই একটি সমৃদ্ধ ভারতও বাংলাদেশের জন্য কাম্য বলেও মনে করেন তিনি।

দুই দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আবেগগত সংযোগের এই বাস্তবতা এবং পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও পারস্পরিক কল্যাণের এই যুক্তিই সম্পর্ককে অব্যাহতভাবে পথনির্দেশনা প্রদান করবে এবং সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রণয় ভার্মা।

বিগত ৫৫ বছরে ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ই অনেকটা পথ পাড়ি দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা উভয়ই আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি সক্ষম, আত্মবিশ্বাসী, সংযুক্ত এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী সমাজে পরিণত হয়েছি। আমরা উভয়েই আমাদের অভিন্ন এই অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন।’

জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন বিদায়ী এই কূটনীতিক। একইসঙ্গে অঞ্চলটির দুটি বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে পারস্পরিক সমন্বয় ও সংযোগ বৃদ্ধিতে নেতৃত্ব দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমরা আমাদের অতীতের তুলনায় অনেকাংশেই আলাদা হওয়ার কারণে আমি আরও বিশ্বাস করি যে, আমাদের সম্পৃক্ততার জন্য ভবিষ্যৎ-কেন্দ্রিক নতুন একটি কর্মসূচি প্রয়োজন। এমন একটি কর্মসূচি যা আমাদের নতুন সক্ষমতাসমূহ, নতুন লক্ষ্যসমূহ ও নতুন জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারসমূহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এমন একটি কর্মসূচি যা আমাদের সুদৃঢ় সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সংযোগের মাধ্যমে পরিচালিত। এবং এমন একটি কর্মসূচি যা পারস্পরিক আগ্রহ, পারস্পরিক কল্যাণ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে গঠিত।’

দ্রুত বিকাশমান দুটি দেশ হিসেবে আমাদের ভৌগোলিক নৈকট্য আমাদের উভয়ের জন্যই একটি সম্পদ, কোনো দায় নয়। এই নৈকট্যকে উভয়ের জন্য নতুন সুযোগে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে আমাদেরকে অবশ্যই নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যেতে হবে।

বিদায়ের ক্ষণে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘চার বছর অনেক দীর্ঘ সময় হলেও এই দেশ ও তার মানুষের প্রতি আমাদের যে স্নেহার্দ্রতা ও আবেগীয় টান গড়ে উঠেছে, তার জন্য এই সময়কাল অপ্রতুল। নানা উত্থান-পতন সত্ত্বেও, কেবলমাত্র এখানে গড়ে ওঠা অসাধারণ বন্ধুত্ব এবং সমগ্র দেশের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া উষ্ণতা ও স্নেহের কারণে বাংলাদেশে আমাদের কাটানো এই সময়টি আমার ও আমার স্ত্রীর কাছে সবচেয়ে প্রিয় পর্যায় হিসেবে স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে।’

বাংলাদেশের প্রায় সকল স্তরে অনেক সুহৃদ বন্ধু রয়েছেন, যারা হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করেছেন উল্লেখ করে বিদায় বার্তার শেষে তিনি বলেন, ‘তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার প্রত্যাশা করছি। আমরা আশা করি, আমাদের পথ আবার কখনো, কোনো এক সময়, কোনো এক স্থানে মিলিত হবে! সেই পর্যন্ত, আমি শুধু এটাই বলতে চাই—আবার দেখা হবে!’

আইকে/টিএ

মন্তব্য করুন