প্রায় ১০ বছর এক চোখে অন্ধ ছিলেন অ্যান হ্যাথাওয়ে
ছবি: সংগৃহীত
০৭:২৩ পিএম | ২৪ মে, ২০২৬
পর্দায় নিখুঁত অভিনয় আর গ্ল্যামার দিয়ে কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করলেও, দীর্ঘ ১০ বছর এক চোখে তীব্র দৃষ্টিহীনতার সমস্যায় ভুগেছেন ‘দ্য ডেভিল ওয়ারস প্রাডা’ খ্যাত ৪৩ বছর বয়সি হলিউড অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ে।
গত ২২ এপ্রিল দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের পডকাস্ট ‘পপকাস্ট’-এ হাজির হয়ে জীবনের এই গোপন ও কঠিন লড়াইয়ের কথা প্রথমবার প্রকাশ্যে আনেন তিনি।
পডকাস্টের সঞ্চালক জন কারামানিকা ও জো কসকারেল্লির সঙ্গে আলাপকালে হ্যাথাওয়ে কিছুটা রসিকতার সুরে বলেন, ‘তথ্যটা হয়তো একটু বেশিই ব্যক্তিগত হয়ে যাচ্ছে, তবে আমি প্রায় ১০ বছর এক চোখে অর্ধেক অন্ধ ছিলাম।’ অ্যান হ্যাথাওয়ে জানান, মাত্র ৩০ বছর বয়সেই তার বাম চোখে ‘আর্লি অনসেট ক্যাটারাক্ট’ বা সময়ের আগেই চোখের ছানি পড়ার সমস্যা দেখা দেয়, যা সাধারণত বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, ছানি পড়ার কারণে চোখের ভেতরের স্বচ্ছ লেন্সটি ঘোলাটে হয়ে যায়, যার ফলে চারপাশের সবকিছু কুয়াশাচ্ছন্ন বা ফ্রস্টেড জানালার মতো দেখায়। এতে পড়ালেখা করা, রাতে গাড়ি চালানো বা মানুষের মুখের অভিব্যক্তি দেখাও অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতি তার জীবনে তীব্র মানসিক চাপের সৃষ্টি করেছিল। হ্যাথাওয়ে বলেন, ‘পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যে আমার বাম চোখ প্রায় অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আমি অস্ত্রোপচার করাই। অপারেশন সফল হওয়ার পর যখন আমি চারপাশের পৃথিবীর সব রং স্পষ্ট দেখতে পেলাম, তখনই কেবল বুঝতে পারলাম যে আমার চোখের অবস্থা আসলে কতটা খারাপ হয়েছিল।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার পর আমার মানসিক উত্তেজনা অনেকটাই কমে এসেছে। আমি আগে বুঝতেই পারিনি যে এই সমস্যাটি আমার স্নায়ুতন্ত্রের ওপর কতটা মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছিল। এখন প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে যখন সবকিছু স্পষ্ট দেখতে পাই, তখন একে আমার কাছে একটি অলৌকিক ঘটনা বা মিরাকল মনে হয়।’
চোখের সমস্যার পাশাপাশি বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিখ্যাত ফ্যাশন সাময়িকী ‘এল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের প্লাস্টিক সার্জারি সংক্রান্ত সাম্প্রতিক গুঞ্জন নিয়েও কথা বলেছেন হ্যাথাওয়ে। সম্প্রতি কান উৎসবের রেড কার্পেটে তার টানটান তরুণ লুক দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রটে যায় যে, তিনি ফেসলিফট বা প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছেন।
এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পরার পর হ্যাথাওয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি চুলের স্টাইল করার টিউটোরিয়াল ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে দেখানো হয় কীভাবে নির্দিষ্ট উপায়ে বেণী করলে ফেসলিফটের মতো একটি টানা বা লিফটেড লুক পাওয়া যায়।
এই প্রসঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যেখানে মানুষ কোনো কিছুকে খুব সহজেই সত্য বলে ধরে নেয়, যা অনেক সময়ই ভুল প্রমাণিত হয়। গুঞ্জনটা এত বেশি জোরালো হয়ে উঠেছিল যে আমার নিজের সত্যটা সামনে আনা জরুরি হয়ে পড়েছিল।
মানুষ কোনো প্রমাণ ছাড়াই ধরে নেয় যে কেউ একজন এত বড় একটি মেডিকেল সিদ্ধান্ত (সার্জারি) নিয়ে ফেলেছে। আমি শুধু দেখাতে চেয়েছিলাম যে, না, আমি কোনো সার্জারি করাইনি। এটা কোনো বড় মেডিকেল সিদ্ধান্ত ছিল না, এটা ছিল কেবলই দুটি বেণী!’
তবে বেশ খোলামেলা মেজাজে সাক্ষাৎকারের শেষে তিনি এটিও স্বীকার করেন, ‘অবশ্য, এই সব কথার পরেও একটা কথা বলে রাখি- ভবিষ্যতে কোনো একদিন আমি হয়তো সত্যিই ফেসলিফট করাতে পারি!’
সূত্র: পিপল
এসএ/এসএন