আসন্ন জাতীয় বাজেটে শ্রমিকদের জন্য ১০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি
ছবি: সংগৃহীত
১২:৪৮ এএম | ২৫ মে, ২০২৬
আসন্ন জাতীয় বাজেটে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও কর্মসংস্থানের জন্য মোট বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন।
একইসঙ্গে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত, শ্রমিক বিমা, রেশন ব্যবস্থা, শ্রমিক হাসপাতাল, বেকারত্ব বিমা এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার আওতায় আনার দাবি তুলেছে সংগঠনটি।
রোববার (২৪ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘শ্রমিকবান্ধব বাজেটের রূপরেখা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট অতিকুর রহমান।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ও বাজেটের আকার বাড়লেও শ্রমজীবী মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন সেই তুলনায় হয়নি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট, বেকারত্ব এবং শিল্পখাতে অনিশ্চয়তার কারণে শ্রমজীবী মানুষ চরম চাপে রয়েছে। তাই এবারের বাজেটকে কেবল প্রবৃদ্ধিনির্ভর নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার ও শ্রমিককেন্দ্রিক করার আহ্বান জানান তিনি।
উপস্থাপিত রূপরেখায় শ্রমিকের মজুরিকে সাংবিধানিক ও অর্থনৈতিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি বছর ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ এবং একটি স্বাধীন জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। একইসঙ্গে কারখানা বন্ধ, ছাঁটাই বা অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে শ্রমিকদের সুরক্ষায় ‘মজুরি সুরক্ষা তহবিল’ ও ‘জাতীয় মজুরি নিশ্চয়তা বিমা স্কিম’ চালুর দাবি জানান তিনি।
সংগঠনটি আরও বলেছে, দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ এখনো অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। দিনমজুর, রিকশাচালক, গৃহকর্মী ও নির্মাণশ্রমিকদের জন্য জাতীয় ডিজিটাল ডেটাবেইজ তৈরি, শ্রমিক পরিচয়পত্র প্রদান এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাজেটে পৃথক বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন।
নারী শ্রমিকদের নিরাপদ যাতায়াত, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, ডে-কেয়ার সেন্টার ও কর্মক্ষেত্রে জেন্ডার সুরক্ষা নিশ্চিতেও বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য বাধ্যতামূলক সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল গঠন, পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ও দুর্ঘটনা সহায়তা চালুর প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।রূপরেখায় শিল্পাঞ্চলে সুলভ মূল্যে চাল, ডাল, তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে স্থায়ী রেশন ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়।
একইসঙ্গে শ্রমিক হাসপাতাল স্থাপন, স্বাস্থ্যবিমা, টেলিমেডিসিন এবং সন্ধ্যাকালীন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা চালুর আহ্বান জানানো হয়। শিল্পাঞ্চলে স্বল্পমূল্যের আবাসন ও ডরমিটরি নির্মাণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
কর্মসংস্থান খাতে বেকারত্ব বিমা, বেকার ভাতা, রি-স্কিলিং ও আপ-স্কিলিং কর্মসূচি চালু, শিক্ষানবিশ ভাতা প্রদান এবং প্রবাসগামী শ্রমিকদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়। বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর জন্য পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনের দাবি জানানো হয়।
এছাড়া ধনীদের ওপর সম্পদ কর ও সারচার্জ বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ভ্যাট কমানো এবং কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধে কর প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশনের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।
অ্যাডভোকেট অতিকুর রহমান বলেন, আমরা সরকারকে একটি প্রাথমিক ধারণা ও রূপরেখা দিয়েছি। আশা করি আগামী বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষ। তাদের ন্যায্য অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই আগামী বাজেটে শ্রমিকবান্ধব নীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তছলিম, সহ-সভাপতি কবির আহাম্মেদ, গোলাম রাব্বানী ও মুজিবুর রহমান ভুঁইয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক মুহিবুল্লাহ, দপ্তর সম্পাদক আক্তারুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ আজহারুল ইসলাম, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক জামিল মাহমুদ, প্রচার সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন জাতীয় ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।
আরআই/টিকে