গাইবান্ধায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল সাবেক দায়রা জজের
ছবি: সংগৃহীত
০২:০৫ এএম | ২৫ মে, ২০২৬
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুল আউয়াল (৫৫) নামে সাবেক এক দায়রা জজের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৪ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্মশান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল আউয়াল ওই ইউনিয়নের মনিরাম (গাজীর মোড়) গ্রামের সৈয়দ ব্যাপারীর ছেলে। তিনি সর্বশেষ গাজীপুর জেলার দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং বর্তমানে গাইবান্ধা জজ কোর্টে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করছিলেন।
দুর্ঘটনার বিষয়টি দেশের একটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।
নিহতের স্বজন, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা জজ কোর্টে আইন পেশার কাজ শেষে এক মুহুরির (আইনজীবীর সহকারী) সঙ্গে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন আব্দুল আউয়াল সরকার। পথে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বামনডাঙ্গা ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন শ্মশান এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ড্রাম ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের ভাতিজা রাশেদুল ইসলাম দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, আব্দুল আউয়াল সর্বশেষ গাজীপুর জেলার দায়রা জজ ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলটির তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফকে একটি শালবন সংক্রান্ত বিষয়ে অন্যায় সুবিধা না দেওয়ায় তাকে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছিল। তখন থেকেই তিনি বরখাস্ত অবস্থায় ছিলেন।
রাশেদুল আরও জানান, সম্প্রতি নিহতের কাছ থেকে তিনি শুনেছিলেন যে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চাকরিতে পুনর্বহালের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত পেয়েছিলেন আব্দুল আউয়াল। এ নিয়ে তিনি ঢাকায় যোগাযোগও করছিলেন। একই সাথে গাইবান্ধা জজ কোর্টে আইনজীবী হিসেবেও প্র্যাকটিস করছিলেন তিনি।
এদিকে দুর্ঘটনার পর ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে মোটরসাইকেল চালক তথা নিহতের মুহুরি আশাদুলকে বলতে শোনা যায়, গাইবান্ধা থেকে মোটরসাইকেলটি চালিয়ে আসছিলেন নিহত আব্দুল আউয়াল। পথের কিছুদূর আসার পর তিনি আশাদুলকে চালাতে দিয়ে নিজে পেছনে বসেন।
সুন্দরগঞ্জের শ্মশান এলাকায় পৌঁছালে রংপুর থেকে আসা একটি ড্রাম ট্রাক তাদের অতিক্রম করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ভিডিওতে আশাদুল দাবি করেন, মোটরসাইকেলটি ওই সময় অনেক ধীরগতিতে ছিল। কিন্তু পেছনে কীভাবে কী হলো আমি বুঝতে পারিনি। আমিও পড়ে গিয়ে হাত ছিলে গেছে, তবে আমার মাথায় হেলমেট ছিল। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক গাড়িটি থামালেও এই অবস্থা দেখে দ্রুত পালিয়ে যায়।
আশাদুল আরও জানান, ঘটনার পরপরই তিনি জজের বাড়িতে ফোন দিলেও কেউ রিসিভ করেনি। তাই মোবাইল ও বিপুল পরিমাণ টাকাসহ নিহত জজকে রাস্তায় রেখেই তিনি সরাসরি তার বাড়িতে খবর দিতে যান। পরে স্বজনরা ঘটনাস্থলে আসেন।
তবে ওই ভিডিওতে স্থানীয়দের আশাদুলের প্রতি ক্ষোভ ও সন্দেহ প্রকাশ করতে দেখা যায়। মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা মানুষ মারা গেলেন, অথচ চালক ও বাইকের কিছুই হলো না- এমন সন্দেহজনক প্রশ্ন করতে শোনা যায় স্থানীয়দের।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকটি নিয়ে চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে ট্রাকটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এসকে/টিএ