বাঙ্কারে লুকিয়ে আছেন মোজতবা খামেনি, বার্তা আদান-প্রদান করছেন কীভাবে?
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৪২ পিএম | ২৫ মে, ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে একটি অজ্ঞাত স্থানে কার্যত আত্মগোপনে রয়েছেন এবং বাইরের বিশ্বের সঙ্গে তার যোগাযোগ অত্যন্ত সীমিত। তার কাছে বার্তা পৌঁছানো হচ্ছে জটিল এক কুরিয়ার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত মার্কিন কর্মকর্তারা।
রোববার (২৪ মে) সিবিএস নিউজের অনুসন্ধানী এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার অনুমতি পাওয়া ইরানি কর্মকর্তারাও নিজেদের সরকারি ব্যবস্থার ভেতরে যোগাযোগ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। কর্মকর্তাদের মতে, এ কারণেই ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি এবং অতীতের সমঝোতাগুলোর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা দেখা যাচ্ছে।
দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র যখন কোনো প্রস্তাব বা চুক্তির খসড়া পাঠায়, তখন তা সর্বোচ্চ নেতার কাছে পৌঁছাতে এবং সেখান থেকে উত্তর ফিরে আসতে উল্লেখযোগ্য সময় লেগে যায়। কারণ, তার সঙ্গে যোগাযোগের পথ অত্যন্ত সীমিত ও জটিল।
খামেনির অবস্থান কিংবা ইরানের যোগাযোগ পদ্ধতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র।
তবে প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বর্তমান খসড়া চুক্তির মূল কাঠামোর সঙ্গে সর্বোচ্চ নেতা সম্মতি দিয়েছেন। একই দিন ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, তিনি আশা করছেন কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে।
মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় পরিচালিত অপারেশন এপিক ফিউরিতে আহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে যেভাবে লক্ষ্যবস্তু করে হত্যা করা হয়েছিল, একই ধরনের হামলা এড়াতেই তিনি এসব ব্যবস্থা নিয়েছেন।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
যুদ্ধ শুরুর আগে সর্বশেষ তাকে জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে মোজতবা খামেনিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোথাও দেখা যায়নি বা তার কোনো প্রকাশ্য বক্তব্যও শোনা যায়নি।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরান সরকারের অভ্যন্তর থেকে পাওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের কারণে যুদ্ধ চলাকালে দেশটির উচ্চপর্যায়ের বহু নেতার অবস্থান শনাক্ত করা এবং তাদের নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে।
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অধিকাংশ ইরানি নেতা দিনের আলো পর্যন্ত দেখেন না। তারা সপ্তাহের পর সপ্তাহ অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে অবস্থান করছেন এবং একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগও এড়িয়ে চলছেন।
এক কর্মকর্তা বলেন, তাদের নিজেদের মধ্যে কীভাবে যোগাযোগ করবে, তা নিয়ে হিমশিম খাওয়ার দৃশ্যটা অনেকটা কোনো সিটকম দেখার মতো। তারা পুরোপুরি হতাশ ও বিরক্ত। সূত্রগুলোর দাবি, সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নেতাকে ঘিরে।
পরিকল্পিতভাবেই ইরান সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তাও জানেন না তিনি কোথায় অবস্থান করছেন। এমনকি তাদের কাছে সরাসরি যোগাযোগের কোনো উপায়ও নেই। এর পরিবর্তে তার অবস্থান গোপন রাখতে বিশেষভাবে গড়ে তোলা একটি কুরিয়ার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করা হচ্ছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এ কারণেই আপনি শুনতে পান সর্বোচ্চ নেতা কাঠামোগত প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন কিংবা চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে তার মতামতের অপেক্ষায় আছি। তার কাছে পৌঁছানো প্রতিটি তথ্যই পুরোনো হয়ে যায় এবং তার প্রতিক্রিয়া আসতেও অনেক সময় লাগে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোজতবা খামেনি তার অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কাছে সামগ্রিক নির্দেশনা পৌঁছে দিয়েছেন।
তিনি কোন কোন বিষয়ে আলোচনা বা দরকষাকষি করা যাবে এবং কোন বিষয়গুলো আলোচনার বাইরে রাখতে হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
ফলে বর্তমান আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি কর্মকর্তারা সেই নির্ধারিত সীমার মধ্যেই কাজ করছেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এখনো সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এমআই/টিএ